ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুশ কমান্ডারকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে মডেল মার্গারিতা রিউট গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর নৌবহরের সাবমেরিন ব্রিগেডের উপ-অধিনায়ক রবার্ট শাগিয়েভকে দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা হামলায় হত্যার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক মডেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম মার্গারিতা রিউট, যিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং সোচি শহরের বাসিন্দা। গত ১৩ আগস্ট অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রুশ ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি) মার্গারিতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

তদন্তকারীদের তথ্যমতে, নিহত রবার্ট শাগিয়েভ ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর ইউক্রেনের সাবমেরিন কমান্ডারের দায়িত্ব ছেড়ে রুশ নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন সকালে সেভাস্তোপলের একটি আবাসিক এলাকায় নৌবাহিনীর পোশাকে হাঁটার সময় তিনি হামলার শিকার হন। রাস্তার পাশে ডাস্টবিনে আগে থেকেই লুকিয়ে রাখা ৫০০ গ্রাম টিএনটি সমমানের দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মার্গারিতা রিউটকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে বোমা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোল উদ্ধারের দাবি করে। এফএসবি জানিয়েছে, মার্গারিতা ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের প্রলোভনে এই কাজ করেছেন। বিনিময়ে তাকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং নিরাপদে বিদেশে পাড়ি জমানোর নথিপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

মার্গারিতার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত রোমাঞ্চপ্রিয় ও বেপরোয়া স্বভাবের ছিলেন। সোচিতে একটি অল্টারনেটিভ মেডিসিন কোম্পানিতে কাজ করার আড়ালে তিনি থাইল্যান্ড, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা ও কিউবার মতো দেশে বিলাসবহুল ছুটি কাটাতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনময়ী ছবি প্রকাশ করতেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার প্রতি তার তীব্র ক্ষোভের প্রমাণ পাওয়া যায়, যার জেরে ট্রেনের ভেতর রুশ সেনাদের সমালোচনার দায়ে তিনি জরিমানাও দিয়েছিলেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি একটি গোপন ফোন ব্যবহার শুরু করেন। মিউজিক ভিডিওর লোকেশন খোঁজার অজুহাতে ক্রিমিয়ায় গিয়ে তিনি কমান্ডারের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্ধু মহলে সদা হাস্যোজ্জ্বল এই নারীর মাধ্যমে মস্কোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা এক ভয়ংকর ছক বাস্তবায়ন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

রুশ কমান্ডারকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে মডেল মার্গারিতা রিউট গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর নৌবহরের সাবমেরিন ব্রিগেডের উপ-অধিনায়ক রবার্ট শাগিয়েভকে দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা হামলায় হত্যার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক মডেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম মার্গারিতা রিউট, যিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং সোচি শহরের বাসিন্দা। গত ১৩ আগস্ট অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রুশ ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি) মার্গারিতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

তদন্তকারীদের তথ্যমতে, নিহত রবার্ট শাগিয়েভ ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর ইউক্রেনের সাবমেরিন কমান্ডারের দায়িত্ব ছেড়ে রুশ নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন সকালে সেভাস্তোপলের একটি আবাসিক এলাকায় নৌবাহিনীর পোশাকে হাঁটার সময় তিনি হামলার শিকার হন। রাস্তার পাশে ডাস্টবিনে আগে থেকেই লুকিয়ে রাখা ৫০০ গ্রাম টিএনটি সমমানের দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মার্গারিতা রিউটকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে বোমা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোল উদ্ধারের দাবি করে। এফএসবি জানিয়েছে, মার্গারিতা ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা হ্যান্ডলারদের প্রলোভনে এই কাজ করেছেন। বিনিময়ে তাকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং নিরাপদে বিদেশে পাড়ি জমানোর নথিপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

মার্গারিতার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত রোমাঞ্চপ্রিয় ও বেপরোয়া স্বভাবের ছিলেন। সোচিতে একটি অল্টারনেটিভ মেডিসিন কোম্পানিতে কাজ করার আড়ালে তিনি থাইল্যান্ড, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা ও কিউবার মতো দেশে বিলাসবহুল ছুটি কাটাতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনময়ী ছবি প্রকাশ করতেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার প্রতি তার তীব্র ক্ষোভের প্রমাণ পাওয়া যায়, যার জেরে ট্রেনের ভেতর রুশ সেনাদের সমালোচনার দায়ে তিনি জরিমানাও দিয়েছিলেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি একটি গোপন ফোন ব্যবহার শুরু করেন। মিউজিক ভিডিওর লোকেশন খোঁজার অজুহাতে ক্রিমিয়ায় গিয়ে তিনি কমান্ডারের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্ধু মহলে সদা হাস্যোজ্জ্বল এই নারীর মাধ্যমে মস্কোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা এক ভয়ংকর ছক বাস্তবায়ন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin