ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপিকেও শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স নিয়ে শঙ্কা নোয়াখালীতে খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নন-কটন পণ্যের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ কারাবাস ও বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফিরলেন অভিনেতা জাহের আলভী পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের রশি টানাটানিতে ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ আটঘরিয়ায় দেড় লাখ তালের বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসায় হামলার প্রতিবাদে রংপুরে বিক্ষোভ ইস্তাম্বুলে ইয়ামালের ম্যাজিকে গ্যালাতাসারাইকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজনসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং ছোট ছেলে শর্ণশীষ দত্ত। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে তাঁদের এমন করুণ মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রী আফসানা শারমিনের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে বিমানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান দেবাশীষ দত্ত। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী, শ্বশুর ও ছোট ছেলে ছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষ করে তাঁরা কলকাতায় ফিরে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত জানান, গত সোমবার রাত ১১টায় তাঁরা বিমানে করে কলকাতায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল দেবাশীষের। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, কলকাতায় কেনাকাটা শেষ করেছেন এবং বুধবার সকালে ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। কিন্তু বুধবার ভোরে লাগা আগুনে সব শেষ হয়ে যায়।

ভারত যাওয়ার সময় দেবাশীষ দত্ত তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্তকে কুষ্টিয়ার বাড়িতে ঠাকুমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ফলে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় শিশুটি। এদিকে একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।

বুধবার দুপুরে দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা স্বপ্না দত্ত। পাশের ঘরে নির্বাক বসে আছেন বাবা দিলীপ দত্ত। অন্য একটি রুমে আট বছরের মহিমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন স্বজনরা, যদিও অবুঝ শিশুটি এখনো পুরো বিষয়টি বুঝতে পারছে না। বাড়িতে ভিড় জমানো সহকর্মীরা জানান, দেবাশীষ দত্ত কেবল একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সবার অত্যন্ত আপনজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজনসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং ছোট ছেলে শর্ণশীষ দত্ত। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে তাঁদের এমন করুণ মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রী আফসানা শারমিনের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে বিমানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান দেবাশীষ দত্ত। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী, শ্বশুর ও ছোট ছেলে ছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষ করে তাঁরা কলকাতায় ফিরে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত জানান, গত সোমবার রাত ১১টায় তাঁরা বিমানে করে কলকাতায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল দেবাশীষের। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, কলকাতায় কেনাকাটা শেষ করেছেন এবং বুধবার সকালে ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। কিন্তু বুধবার ভোরে লাগা আগুনে সব শেষ হয়ে যায়।

ভারত যাওয়ার সময় দেবাশীষ দত্ত তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্তকে কুষ্টিয়ার বাড়িতে ঠাকুমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ফলে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় শিশুটি। এদিকে একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।

বুধবার দুপুরে দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা স্বপ্না দত্ত। পাশের ঘরে নির্বাক বসে আছেন বাবা দিলীপ দত্ত। অন্য একটি রুমে আট বছরের মহিমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন স্বজনরা, যদিও অবুঝ শিশুটি এখনো পুরো বিষয়টি বুঝতে পারছে না। বাড়িতে ভিড় জমানো সহকর্মীরা জানান, দেবাশীষ দত্ত কেবল একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সবার অত্যন্ত আপনজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor