ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালের অবকাঠামো ধ্বংস কেন বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে? হিমবাহধসের পর এবার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাউথ ব্লকের চাপ ও অস্বস্তি বেসামরিক প্রশাসনে সামরিকীকরণ ও মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন হত্যায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালালের স্বীকারোক্তি বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ চারজনের খুনের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থতা সরকারের চরম ব্যর্থতা: গোলাম পরওয়ার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইমদাদুল হুদা সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ

কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজনসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং ছোট ছেলে শর্ণশীষ দত্ত। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে তাঁদের এমন করুণ মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রী আফসানা শারমিনের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে বিমানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান দেবাশীষ দত্ত। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী, শ্বশুর ও ছোট ছেলে ছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষ করে তাঁরা কলকাতায় ফিরে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত জানান, গত সোমবার রাত ১১টায় তাঁরা বিমানে করে কলকাতায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল দেবাশীষের। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, কলকাতায় কেনাকাটা শেষ করেছেন এবং বুধবার সকালে ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। কিন্তু বুধবার ভোরে লাগা আগুনে সব শেষ হয়ে যায়।

ভারত যাওয়ার সময় দেবাশীষ দত্ত তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্তকে কুষ্টিয়ার বাড়িতে ঠাকুমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ফলে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় শিশুটি। এদিকে একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।

বুধবার দুপুরে দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা স্বপ্না দত্ত। পাশের ঘরে নির্বাক বসে আছেন বাবা দিলীপ দত্ত। অন্য একটি রুমে আট বছরের মহিমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন স্বজনরা, যদিও অবুঝ শিশুটি এখনো পুরো বিষয়টি বুঝতে পারছে না। বাড়িতে ভিড় জমানো সহকর্মীরা জানান, দেবাশীষ দত্ত কেবল একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সবার অত্যন্ত আপনজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজনসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং ছোট ছেলে শর্ণশীষ দত্ত। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে তাঁদের এমন করুণ মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রী আফসানা শারমিনের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে বিমানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান দেবাশীষ দত্ত। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী, শ্বশুর ও ছোট ছেলে ছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষ করে তাঁরা কলকাতায় ফিরে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত জানান, গত সোমবার রাত ১১টায় তাঁরা বিমানে করে কলকাতায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল দেবাশীষের। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, কলকাতায় কেনাকাটা শেষ করেছেন এবং বুধবার সকালে ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। কিন্তু বুধবার ভোরে লাগা আগুনে সব শেষ হয়ে যায়।

ভারত যাওয়ার সময় দেবাশীষ দত্ত তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্তকে কুষ্টিয়ার বাড়িতে ঠাকুমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ফলে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় শিশুটি। এদিকে একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুর খবর কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।

বুধবার দুপুরে দেবাশীষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা স্বপ্না দত্ত। পাশের ঘরে নির্বাক বসে আছেন বাবা দিলীপ দত্ত। অন্য একটি রুমে আট বছরের মহিমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন স্বজনরা, যদিও অবুঝ শিশুটি এখনো পুরো বিষয়টি বুঝতে পারছে না। বাড়িতে ভিড় জমানো সহকর্মীরা জানান, দেবাশীষ দত্ত কেবল একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সবার অত্যন্ত আপনজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor