ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর চাঁদাবাজির মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে ডেভিড ইমন হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক, নিরাপত্তা জোরদার উত্তরায় সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই, অপরাধীদের ধরতে ডিবির অভিযান বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ, এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সমন্বয়কদের সঙ্গে ছবি তোলায় হারুনকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা রাবিতে রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীতের বৈচিত্র্য নিয়ে জাতীয় সেমিনার শুরু প্রাণনাশের হুমকি: তুরস্কে গোপনে বিমান বদল করেছিলেন ট্রাম্প মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে আর সুযোগ দেবে না জনগণ: রুহুল কবির রিজভী

ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগ নিয়ে তোপের মুখে রাজশাহীর ইউএনওরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বঞ্চিতরা বিভিন্ন স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সংশ্লিষ্ট ইউএনওসহ কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, কিছু ইউএনও দুর্নীতির মাধ্যমে জামায়াত বা আওয়ামী লীগের কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। আবার কিছু স্থানে নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, ইউএনওরা বিএনপি নেতাদের যোগসাজশে দলটির নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছেন।

রাজশাহী ও সিলেট ব্যুরো এবং যশোর প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে অধিকাংশ ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তোপের মুখে পড়েছেন। রোববার থেকে বিভিন্ন উপজেলায় নিয়োগের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। সোমবার বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। বাগমারা উপজেলা যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ‘ধর ধর ইউএনও ধর, ধরে ধরে জবাই কর’ ও ‘ইউএনওর চামড়া, তুলে নেব আমরা’ স্লোগান দেন। এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করে শতভাগ মেধাবীদের মধ্য থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে গতকাল গোদাগাড়ী ইউএনও কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে। একই দিন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানুল হকের নেতৃত্বে তারা ইউএনও নাঈমা হকের অপসারণ দাবি করেন। তবে ইউএনও নাঈমা হক জানান, পরীক্ষায় নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

পুঠিয়াতেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। বড় নেতাদের সুপারিশ থাকার পরও তাদের প্রার্থীরা বাদ পড়ায় তারা ক্ষুব্ধ। পুঠিয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন জনি জানান, ছাত্রদলের পদধারী নেতারাও বাদ পড়েছেন। পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট ও জামায়াতের মধ্য থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গ্রামে গ্রামে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গণধোলাই দিয়ে বিদায় করবেন।’ এ বিষয়ে পুঠিয়ার ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, অনেক সুপারিশ ও তদবির থাকলেও প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

চারঘাটের বঞ্চিতরা অভিযোগ করেছেন, সেখানকার ইউএনও শতভাগ দলীয়করণ করেছেন এবং বিএনপি নেতার সুপারিশে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচিত করেছেন। তারা জেলা প্রশাসনের অধীনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চারঘাটের ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, প্রার্থী নির্বাচনে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে এবং সেভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্যামিলি কার্ডে নিয়োগ নিয়ে তোপের মুখে রাজশাহীর ইউএনওরা

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বঞ্চিতরা বিভিন্ন স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সংশ্লিষ্ট ইউএনওসহ কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, কিছু ইউএনও দুর্নীতির মাধ্যমে জামায়াত বা আওয়ামী লীগের কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। আবার কিছু স্থানে নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, ইউএনওরা বিএনপি নেতাদের যোগসাজশে দলটির নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছেন।

রাজশাহী ও সিলেট ব্যুরো এবং যশোর প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে অধিকাংশ ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তোপের মুখে পড়েছেন। রোববার থেকে বিভিন্ন উপজেলায় নিয়োগের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। সোমবার বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। বাগমারা উপজেলা যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ‘ধর ধর ইউএনও ধর, ধরে ধরে জবাই কর’ ও ‘ইউএনওর চামড়া, তুলে নেব আমরা’ স্লোগান দেন। এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করে শতভাগ মেধাবীদের মধ্য থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে গতকাল গোদাগাড়ী ইউএনও কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে। একই দিন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানুল হকের নেতৃত্বে তারা ইউএনও নাঈমা হকের অপসারণ দাবি করেন। তবে ইউএনও নাঈমা হক জানান, পরীক্ষায় নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

পুঠিয়াতেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। বড় নেতাদের সুপারিশ থাকার পরও তাদের প্রার্থীরা বাদ পড়ায় তারা ক্ষুব্ধ। পুঠিয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন জনি জানান, ছাত্রদলের পদধারী নেতারাও বাদ পড়েছেন। পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট ও জামায়াতের মধ্য থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গ্রামে গ্রামে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গণধোলাই দিয়ে বিদায় করবেন।’ এ বিষয়ে পুঠিয়ার ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, অনেক সুপারিশ ও তদবির থাকলেও প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

চারঘাটের বঞ্চিতরা অভিযোগ করেছেন, সেখানকার ইউএনও শতভাগ দলীয়করণ করেছেন এবং বিএনপি নেতার সুপারিশে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচিত করেছেন। তারা জেলা প্রশাসনের অধীনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চারঘাটের ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, প্রার্থী নির্বাচনে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে এবং সেভাবেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor