ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

সংঘাতের খবর দিলে টিভি চ্যানেল চিরতরে বন্ধের হুমকি: কাদের-আরাফাতের অডিও ট্রাইব্যুনালে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘাতের খবর বা ভিডিও ফুটেজ প্রচার করলে টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার একটি ফোনালাপে এই হুমকি ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উঠে এসেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই অডিও রেকর্ডটি বাজিয়ে শোনানো হয়।

ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের এই অডিও কথোপকথনটি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে এই অডিওটি বাজানো হয়।

ফোনালাপের শুরুতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, "এই যে যারা কথা শোনে না, তাদের টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" জবাবে আরাফাত জানান, আগের দিনই তিনি দুই-একটি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আজও নির্দেশ দেওয়া আছে যে, যারা কথা শুনবে না তাদের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর কাদের বলেন, "আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।"

উত্তরে আরাফাত ওবায়দুল কাদেরকে বলেন, "আজকেও ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো ক্ল্যাশের বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদেরকে এনিমি অব দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমি থ্রেট করে রাখছি আজকে।" গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঢালাও অনুমতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আরাফাত বলেন, "উনাকে বসায় রাখছি যে, আপনি কনস্ট্যান্টলি দেখবেন, যে টিভি ক্ল্যাশের ছবি দেখাবে, সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোনো পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না। আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম। আর উইদাউট মাই পারমিশন ওটা অন করবেন না আর। এই ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই আজকে।"

কথোপকথনে ওবায়দুল কাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি জানতে চান। আরাফাত জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ শেষে শেখ হাসিনাকে ব্রিফ করতে যাচ্ছেন। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, "এখন অবস্থাটা হচ্ছে এ রকম যে, কোটা আন্দোলনকারী বলে যেটা বলা হচ্ছিল, এটা দুই ভাগ হয়ে গেছে। একভাগ হলো কোটা আন্দোলনকারী স্টুডেন্ট, যাদের সাথে আমরা আলাপ করছি। আর একটা হলো তৃতীয় পক্ষ, অর্থাৎ জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা যারা পোড়াচ্ছে।" আরাফাত আরও বলেন, কারফিউ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, আর কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি 'সফট সলিউশন' বা নমনীয় সমাধানের দিকে যাওয়া হচ্ছে। এটিকে তাদের তৎকালীন সুনির্দিষ্ট 'ন্যারেটিভ' বা প্রচারকৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জবাবে কাদের বলেন, "এটা ঠিকই আছে। আজকে আলোচনা আছে?" আরাফাত তখন কাদেরকে গণভবনে আসার আমন্ত্রণ জানান। কাদের জানান যে তারা আগের রাতেও ভোর ২টা পর্যন্ত গণভবনে ছিলেন। আরাফাতও কাদেরের আগের দিনের ব্রিফিং দেখার কথা উল্লেখ করে বলেন, গতকালের আলোচনার পর তিনি আজ ব্রিফ করতে এসেছেন। কাদের তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো প্রয়োজন হলে তাকে ফোন দিতে। তিনি তখন পার্টি অফিসে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং শেষ করেছেন বলে জানান।

এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সংঘাতের খবর দিলে টিভি চ্যানেল চিরতরে বন্ধের হুমকি: কাদের-আরাফাতের অডিও ট্রাইব্যুনালে

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘাতের খবর বা ভিডিও ফুটেজ প্রচার করলে টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার একটি ফোনালাপে এই হুমকি ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উঠে এসেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই অডিও রেকর্ডটি বাজিয়ে শোনানো হয়।

ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের এই অডিও কথোপকথনটি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে এই অডিওটি বাজানো হয়।

ফোনালাপের শুরুতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, "এই যে যারা কথা শোনে না, তাদের টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" জবাবে আরাফাত জানান, আগের দিনই তিনি দুই-একটি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আজও নির্দেশ দেওয়া আছে যে, যারা কথা শুনবে না তাদের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর কাদের বলেন, "আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।"

উত্তরে আরাফাত ওবায়দুল কাদেরকে বলেন, "আজকেও ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো ক্ল্যাশের বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদেরকে এনিমি অব দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমি থ্রেট করে রাখছি আজকে।" গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঢালাও অনুমতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আরাফাত বলেন, "উনাকে বসায় রাখছি যে, আপনি কনস্ট্যান্টলি দেখবেন, যে টিভি ক্ল্যাশের ছবি দেখাবে, সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোনো পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না। আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম। আর উইদাউট মাই পারমিশন ওটা অন করবেন না আর। এই ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই আজকে।"

কথোপকথনে ওবায়দুল কাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি জানতে চান। আরাফাত জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ শেষে শেখ হাসিনাকে ব্রিফ করতে যাচ্ছেন। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, "এখন অবস্থাটা হচ্ছে এ রকম যে, কোটা আন্দোলনকারী বলে যেটা বলা হচ্ছিল, এটা দুই ভাগ হয়ে গেছে। একভাগ হলো কোটা আন্দোলনকারী স্টুডেন্ট, যাদের সাথে আমরা আলাপ করছি। আর একটা হলো তৃতীয় পক্ষ, অর্থাৎ জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা যারা পোড়াচ্ছে।" আরাফাত আরও বলেন, কারফিউ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, আর কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি 'সফট সলিউশন' বা নমনীয় সমাধানের দিকে যাওয়া হচ্ছে। এটিকে তাদের তৎকালীন সুনির্দিষ্ট 'ন্যারেটিভ' বা প্রচারকৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

জবাবে কাদের বলেন, "এটা ঠিকই আছে। আজকে আলোচনা আছে?" আরাফাত তখন কাদেরকে গণভবনে আসার আমন্ত্রণ জানান। কাদের জানান যে তারা আগের রাতেও ভোর ২টা পর্যন্ত গণভবনে ছিলেন। আরাফাতও কাদেরের আগের দিনের ব্রিফিং দেখার কথা উল্লেখ করে বলেন, গতকালের আলোচনার পর তিনি আজ ব্রিফ করতে এসেছেন। কাদের তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো প্রয়োজন হলে তাকে ফোন দিতে। তিনি তখন পার্টি অফিসে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং শেষ করেছেন বলে জানান।

এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh