র্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ, প্রকাশিত খসড়া আইন
- আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে। খসড়াটির ওপর এখন জনসাধারণের মতামত আহ্বান করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। বাহিনীটির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। বাহিনীটির সদর দপ্তর ঢাকায় থাকলেও প্রয়োজনে দেশের যেকোনো স্থানে এর ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বাহিনীর কাজের প্রয়োজনে কোম্পানি, প্লাটুন, ব্যাটালিয়ন ও সেকশন গঠনের বিধান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনমত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণের পর খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে আইনটি উত্থাপন করা হবে।
নতুন এই বাহিনী মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা পাবে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এসআরবি সদস্যরা তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে তারা ফৌজদারি মামলার তদন্তও করতে পারবে। তদন্তের সুবিধার্থে বাহিনীটির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
খসড়া আইনে অভিযোগ প্রতিকার কমিটির নতুন সংযোজন আনা হয়েছে। এই কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করবে, প্রয়োজনে অনুসন্ধান দল গঠন করবে এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অনিয়ম, হয়রানি বা অবৈধ প্রভাবের অভিযোগও এই কমিটি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় দায়িত্বে অবহেলা, মাদকাসক্তি, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্রের অপব্যবহার বা অপরাধীকে পালাতে সহায়তার মতো অপরাধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনটি কার্যকর হলে র্যাবের সব জনবল, তহবিল, সম্পদ, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের বিদ্যমান কার্যবিধি প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যাব দুই দশকের বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সরকার এই নতুন কাঠামো ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।




























