লাখাইয়ে বিষাক্ত হোমিও তরল পান করে দম্পতিসহ ৫ জনের মৃত্যু

- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক অ্যালকোহলজাতীয় তরল পান করার পর দম্পতিসহ পাঁচজনের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করা ওই তরলের বিষক্রিয়াতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আত্মগোপনে রয়েছেন।
মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন লাখাই উপজেলার মোড়াকড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন দাস (৬০) ও সুজিত দাস (৩৫), ভাদিকাড়া গ্রামের নন্দলাল রবিদাস (৫২) ও তার স্ত্রী সুবি রবিদাস (৪০) এবং হবিগঞ্জ শহরের রঞ্জিত কুড়ি (৩৬)।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মনোরঞ্জন, সুজিত ও রঞ্জিত মোড়াকড়ি বাজারের ‘হ্যানিম্যান হোমিও হল’-এর মালিক সজল দাসের কাছ থেকে নিয়মিত অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে ওই তরল সেবনের পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। মোড়াকড়ি বাজারের ‘জয় বাবা লোকনাথ’ মাছের আড়তের মালিক প্রদীপ দাস জানান, নিহতরা নিয়মিত ওই দোকান থেকে তরল কিনতেন এবং স্থানীয়দের ধারণা, এই তরল সেবনের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
একইভাবে নন্দলাল রবিদাস ও তার স্ত্রী সুবি রবিদাস স্থানীয় বাজারের একটি দোকান থেকে অ্যালকোহলজাতীয় তরল কিনে সেবনের পর বাড়িতেই মারা যান বলে জানিয়েছেন বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কেএম জিয়া। পরে তাদের মরদেহ দাহ করা হয়।
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ দাস জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাপ্রবাহ সত্য হলে নেশার উদ্দেশ্যে সেবন করা কোনো অ্যালকোহলজাতীয় পদার্থের বিষক্রিয়ায় এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। নিশ্চিত হতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিকল্প নেই।
লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ জানান, পুলিশ তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে। একজনকে সমাহিত করার সময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাকি দুজনকে পুলিশকে না জানিয়েই দাহ করা হয়েছে। অন্য দুজনের বিষয়ে থানায় কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সজল দাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।




























