৩১ জুলাই ২০২৪: ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও ধরপাকড়

- আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা ও গুমের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই (বুধবার) সারা দেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাতে টেলিগ্রাম অ্যাপে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তাদের ৯ দফা দাবির মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মুক্তি, শিক্ষার্থী হত্যার বিচার এবং গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। রাজধানী ঢাকায় দুপুর ১২টার দিকে হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্টের ভেতরে আইনজীবীদের একটি দলও মিছিল করে। বেলা ১টার দিকে মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের দিকে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দোয়েল চত্বরে অবস্থান নেন এবং পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন। বেলা ৩টার দিকে তারা সেখান থেকে চলে যান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচি পালন করেন। অন্যদিকে, সিলেটে কর্মসূচিতে বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা তা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সব মিলিয়ে সারা দেশে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ৯০ জন আহত হন।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে বৃহস্পতিবার ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ ঘোষণা করা হয়। সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশিদের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন শিল্পকর্মের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হবে।
এই দিনটিতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত করে। টানা ১৪ দিন পর ফেসবুক, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সচল হয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা খাতের সংস্কারের জরুরি আহ্বান জানান। এছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি দেশ ছাড়েন এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে ডিবির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মো. আশরাফুজ্জামানকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সহিংসতার পেছনে সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন। এই ১৫ দিনে সারাদেশে মোট ১০ হাজার ৭৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।



























