ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবরারের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে প্রসূতির কোল থেকে নবজাতক চুরি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও ‘নিজস্ব প্রশাসন’ নিয়ে রাজউককে সংসদীয় কমিটির প্রশ্ন আবাসিক এলাকায় নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধে সংসদীয় কমিটির কড়া নির্দেশনা জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন রায়হান আহমেদ তামীম রমজানে নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ, ডিসেম্বরের আগেই সইয়ের আশা

খুলনায় টেন্ডার ছাড়াই কেসিসি’র শতাধিক উন্নয়ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)-এর জরুরি কাজের দোহাই দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প ভাগ-বাটোয়ারা করে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ আসনে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের পর গত ২২শে ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বিগত তিন মাস ধরে চলা এই অনিয়মের ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা গেছে, কেসিসি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সরাসরি ক্ষমতায় এসব কাজ তার অনুসারী বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের দেয়া হয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যার ফলে সংস্কার কাজগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার নিচে জরুরি কাজের ক্ষেত্রে কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, এবার সেই সুযোগটিই অপব্যবহার করা হচ্ছে। কেসিসি’র হিসাব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি’র থোক বরাদ্দ থেকে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা দিয়েই এসব কাজ করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্ধশত প্যাকেজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। নগরীর টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের পাশাপাশি দু’টি গলি সম্প্রতি মেরামত করা হয়েছে। মসজিদ লেনের প্রথম অংশের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। মেসার্স অন্তু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের দ্বিতীয় অংশের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে লোকমান এন্টারপ্রাইজের নামে। এই কাজের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া চানমারী ডা. আলতাফ হোসেন রোড বাইলেন মেরামতের কার্যাদেশ মেসার্স ফয়সাল ট্রেডার্সের নামে। ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের কাজটি করেছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ বণ্টন করা হয়েছে।

প্রচলিত নিয়মে কোটেশনের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দর আহ্বান করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে প্রশাসক নিজেই ঠিক করে দিচ্ছেন কে কাজটি পাবেন। এরপর ওই ব্যক্তিই তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স জোগাড় করে দরপত্র সাজিয়ে জমা দিচ্ছেন। নগরীর মতিয়াখালী খালপাড় সংস্কারের ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার কাজটি যুবদল নেতা নাজমুল হাসান নাসিম, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের কাজ ছাত্রদল নেতা তানভীর ইসলাম অয়ন ও জি এম রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইলেন ও ড্রেন মেরামতের কাজ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা বাস্তবায়ন করছেন।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, টেন্ডার ছাড়া এভাবে কাজ ভাগ-বাটোয়ারার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রশাসক নিজে কাজ করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দাবি করেন, জরুরি কাজের জন্য ছোট ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজগুলো করানো হচ্ছে কারণ বড় ঠিকাদাররা ছোট কাজে আগ্রহী নন। তিনি আরও বলেন, যারা কাজ করছেন তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও ব্যবসা করতেই পারেন এবং সব নিয়ম মেনেই কাজ দেয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় টেন্ডার ছাড়াই কেসিসি’র শতাধিক উন্নয়ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা

আপডেট সময় : ০৮:২৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)-এর জরুরি কাজের দোহাই দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প ভাগ-বাটোয়ারা করে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ আসনে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের পর গত ২২শে ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বিগত তিন মাস ধরে চলা এই অনিয়মের ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা গেছে, কেসিসি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সরাসরি ক্ষমতায় এসব কাজ তার অনুসারী বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের দেয়া হয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যার ফলে সংস্কার কাজগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার নিচে জরুরি কাজের ক্ষেত্রে কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, এবার সেই সুযোগটিই অপব্যবহার করা হচ্ছে। কেসিসি’র হিসাব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি’র থোক বরাদ্দ থেকে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা দিয়েই এসব কাজ করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্ধশত প্যাকেজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। নগরীর টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের পাশাপাশি দু’টি গলি সম্প্রতি মেরামত করা হয়েছে। মসজিদ লেনের প্রথম অংশের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। মেসার্স অন্তু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের দ্বিতীয় অংশের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে লোকমান এন্টারপ্রাইজের নামে। এই কাজের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া চানমারী ডা. আলতাফ হোসেন রোড বাইলেন মেরামতের কার্যাদেশ মেসার্স ফয়সাল ট্রেডার্সের নামে। ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের কাজটি করেছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ বণ্টন করা হয়েছে।

প্রচলিত নিয়মে কোটেশনের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দর আহ্বান করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে প্রশাসক নিজেই ঠিক করে দিচ্ছেন কে কাজটি পাবেন। এরপর ওই ব্যক্তিই তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স জোগাড় করে দরপত্র সাজিয়ে জমা দিচ্ছেন। নগরীর মতিয়াখালী খালপাড় সংস্কারের ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার কাজটি যুবদল নেতা নাজমুল হাসান নাসিম, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের কাজ ছাত্রদল নেতা তানভীর ইসলাম অয়ন ও জি এম রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইলেন ও ড্রেন মেরামতের কাজ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা বাস্তবায়ন করছেন।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, টেন্ডার ছাড়া এভাবে কাজ ভাগ-বাটোয়ারার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রশাসক নিজে কাজ করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দাবি করেন, জরুরি কাজের জন্য ছোট ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজগুলো করানো হচ্ছে কারণ বড় ঠিকাদাররা ছোট কাজে আগ্রহী নন। তিনি আরও বলেন, যারা কাজ করছেন তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও ব্যবসা করতেই পারেন এবং সব নিয়ম মেনেই কাজ দেয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin