ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগস্টের মাঝামাঝি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তোড়জোড়, আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নাম জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কুমামোতোয় ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার পর্নোগ্রাফি মামলায় বাবুগঞ্জের বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার কক্সবাজারে বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা: ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা কানাইঘাটে অবৈধ পাথর ও নৌকাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলেন রাকসু ভিপি জাহিদ ধাপে ধাপে দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ভোলায় পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও বৈষম্য দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

খুলনায় টেন্ডার ছাড়াই কেসিসি’র শতাধিক উন্নয়ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)-এর জরুরি কাজের দোহাই দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প ভাগ-বাটোয়ারা করে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ আসনে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের পর গত ২২শে ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বিগত তিন মাস ধরে চলা এই অনিয়মের ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা গেছে, কেসিসি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সরাসরি ক্ষমতায় এসব কাজ তার অনুসারী বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের দেয়া হয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যার ফলে সংস্কার কাজগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার নিচে জরুরি কাজের ক্ষেত্রে কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, এবার সেই সুযোগটিই অপব্যবহার করা হচ্ছে। কেসিসি’র হিসাব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি’র থোক বরাদ্দ থেকে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা দিয়েই এসব কাজ করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্ধশত প্যাকেজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। নগরীর টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের পাশাপাশি দু’টি গলি সম্প্রতি মেরামত করা হয়েছে। মসজিদ লেনের প্রথম অংশের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। মেসার্স অন্তু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের দ্বিতীয় অংশের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে লোকমান এন্টারপ্রাইজের নামে। এই কাজের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া চানমারী ডা. আলতাফ হোসেন রোড বাইলেন মেরামতের কার্যাদেশ মেসার্স ফয়সাল ট্রেডার্সের নামে। ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের কাজটি করেছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ বণ্টন করা হয়েছে।

প্রচলিত নিয়মে কোটেশনের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দর আহ্বান করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে প্রশাসক নিজেই ঠিক করে দিচ্ছেন কে কাজটি পাবেন। এরপর ওই ব্যক্তিই তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স জোগাড় করে দরপত্র সাজিয়ে জমা দিচ্ছেন। নগরীর মতিয়াখালী খালপাড় সংস্কারের ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার কাজটি যুবদল নেতা নাজমুল হাসান নাসিম, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের কাজ ছাত্রদল নেতা তানভীর ইসলাম অয়ন ও জি এম রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইলেন ও ড্রেন মেরামতের কাজ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা বাস্তবায়ন করছেন।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, টেন্ডার ছাড়া এভাবে কাজ ভাগ-বাটোয়ারার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রশাসক নিজে কাজ করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দাবি করেন, জরুরি কাজের জন্য ছোট ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজগুলো করানো হচ্ছে কারণ বড় ঠিকাদাররা ছোট কাজে আগ্রহী নন। তিনি আরও বলেন, যারা কাজ করছেন তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও ব্যবসা করতেই পারেন এবং সব নিয়ম মেনেই কাজ দেয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় টেন্ডার ছাড়াই কেসিসি’র শতাধিক উন্নয়ন কাজ ভাগ-বাটোয়ারা

আপডেট সময় : ০৮:২৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
print news

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)-এর জরুরি কাজের দোহাই দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প ভাগ-বাটোয়ারা করে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ আসনে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের পর গত ২২শে ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। বিগত তিন মাস ধরে চলা এই অনিয়মের ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা গেছে, কেসিসি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সরাসরি ক্ষমতায় এসব কাজ তার অনুসারী বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের দেয়া হয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যার ফলে সংস্কার কাজগুলো দ্রুত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার নিচে জরুরি কাজের ক্ষেত্রে কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, এবার সেই সুযোগটিই অপব্যবহার করা হচ্ছে। কেসিসি’র হিসাব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি’র থোক বরাদ্দ থেকে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, যা দিয়েই এসব কাজ করানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্ধশত প্যাকেজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। নগরীর টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের পাশাপাশি দু’টি গলি সম্প্রতি মেরামত করা হয়েছে। মসজিদ লেনের প্রথম অংশের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। মেসার্স অন্তু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের দ্বিতীয় অংশের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে লোকমান এন্টারপ্রাইজের নামে। এই কাজের ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া চানমারী ডা. আলতাফ হোসেন রোড বাইলেন মেরামতের কার্যাদেশ মেসার্স ফয়সাল ট্রেডার্সের নামে। ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের কাজটি করেছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ১৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ বণ্টন করা হয়েছে।

প্রচলিত নিয়মে কোটেশনের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দর আহ্বান করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে প্রশাসক নিজেই ঠিক করে দিচ্ছেন কে কাজটি পাবেন। এরপর ওই ব্যক্তিই তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স জোগাড় করে দরপত্র সাজিয়ে জমা দিচ্ছেন। নগরীর মতিয়াখালী খালপাড় সংস্কারের ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকার কাজটি যুবদল নেতা নাজমুল হাসান নাসিম, টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের কাজ ছাত্রদল নেতা তানভীর ইসলাম অয়ন ও জি এম রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইলেন ও ড্রেন মেরামতের কাজ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা বাস্তবায়ন করছেন।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, টেন্ডার ছাড়া এভাবে কাজ ভাগ-বাটোয়ারার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রশাসক নিজে কাজ করলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দাবি করেন, জরুরি কাজের জন্য ছোট ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজগুলো করানো হচ্ছে কারণ বড় ঠিকাদাররা ছোট কাজে আগ্রহী নন। তিনি আরও বলেন, যারা কাজ করছেন তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও ব্যবসা করতেই পারেন এবং সব নিয়ম মেনেই কাজ দেয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin