ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার ও বৈষম্য দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর: মির্জা ফখরুল

- আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজের বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মাঝে ঘরের বরাদ্দপত্র, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘকাল ধরে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের জমিজমা দখলের মতো বেদনাদায়ক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। তাদের এই কষ্টের কথা বিবেচনা করে জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, সরকার কেবল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণই নয়, বরং সব সম্প্রদায়কে সমান মর্যাদায় এগিয়ে নিতে চায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জাতি-গোত্রের বিভেদ দূর করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসা।
অনুষ্ঠানে মোট ৪১৮ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকা মূল্যের উপহার ও অনুদান বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে বসতঘরের বরাদ্দপত্র, ৪৯ জনকে বাইসাইকেল, ৩৩ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৩২৬ জন শিক্ষার্থীকে মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক হস্তান্তর করা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।
এর আগে দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, মাদক নির্মূলের অভিযানকে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তিনি জানান, শুধু আইন প্রয়োগ বা শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, বরং মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বার্তা প্রচার করাই তাদের মূল কাজ।
























