বেবি পাউডার মামলা: ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে জনসন অ্যান্ড জনসন

- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতা নিরসনে জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে) তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তির জন্য ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। নিউ জার্সিভিত্তিক এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তাদের ট্যালকম পাউডার ও অন্যান্য পণ্য গর্ভাশয়ের ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। তবে কোম্পানিটি বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
প্রতিষ্ঠানটির মামলাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস সোমবার জানিয়েছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তারা সমঝোতায় যেতে রাজি হয়েছে। এই প্রস্তাবিত সমঝোতার মাধ্যমে প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ট্যালক সংক্রান্ত অবশিষ্ট অধিকাংশ দাবিকেই অন্তর্ভুক্ত করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হবে এবং ২০২৮ সালের আগে আর কোনো অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে এই সমঝোতা চূড়ান্ত করতে হলে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে থাকা ওভেরিয়ান ক্যান্সার-সংক্রান্ত দাবির ৯৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী আইন সংস্থাগুলোর সম্মতি প্রয়োজন।
এরিক হাস আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস ছিল যে মামলা চলমান থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা জয়ী হতো, কারণ এ পর্যন্ত আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া অধিকাংশ মামলায় জেঅ্যান্ডজে সফল হয়েছে। এই সমঝোতা হলে কোম্পানিটি এই অধ্যায়ের ইতি টেনে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা-যন্ত্র উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্যে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে।
জেঅ্যান্ডজের ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়ে মামলা শুরু হয় ২০০৯ সালে। চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরুতে একটি ফেডারেল আদালত জেঅ্যান্ডজের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়ে প্রশ্ন তোলে যে, মামলাকারীরা ট্যালক থেকে গর্ভাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার সরাসরি প্রমাণ দিতে পেরেছেন কি না। ভোক্তাদের অভিযোগ ছিল, জেঅ্যান্ডজের পণ্য অ্যাসবেস্টস দ্বারা দূষিত ছিল। তবে কোম্পানিটি দাবি করেছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ট্যালক নিরাপদ এবং এতে অ্যাসবেস্টস নেই বলে প্রমাণিত হয়েছে।
বর্তমানে জেঅ্যান্ডজের সাবেক ভোক্তাপণ্য বিভাগ কেনভিউ উত্তর আমেরিকার বাইরে জনসনস বেবি পাউডার-সংক্রান্ত আইনি দায় বহন করছে। ২০২২ সালে কেনভিউকে জেঅ্যান্ডজে থেকে আলাদা করা হয়। এর আগে ২০২২ সালে জেঅ্যান্ডজে বিশ্বজুড়ে ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়। তারও দুই বছরের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের বিক্রি বন্ধ করা হয়েছিল এবং বর্তমানে কর্নস্টার্চভিত্তিক ফর্মুলায় পাউডার বাজারজাত করা হচ্ছে।



























