কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ১

- আপডেট সময় : ০৬:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে শুরু হয়ে রোববার সকাল সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া কিয়েভ লক্ষ্য করে প্রায় ৪০টি ইস্কান্দার-এম এবং হাইপারসনিক জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শনিবার রাত দেড়টার দিকে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজার পরপরই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার শব্দের পাশাপাশি কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে এবং রাস্তায় থাকা গাড়ির অ্যালার্ম বেজে ওঠে। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে দ্বিতীয় দফায় সতর্কসংকেত বাজলে আরও হামলার খবর পাওয়া যায়।
হামলায় শেভচেঙ্কিভস্কি জেলার মধ্যাঞ্চলে একটি তিনতলা ভবনে আগুন ধরে যায়, যেখান থেকে উদ্ধারকর্মীরা একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং আটকে পড়া কয়েকজনকে জীবিত বের করে আনেন। এছাড়া আবাসিক ভবন, কার্যালয় ও একটি ছাত্রাবাসসহ আরও চারটি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় লুকিয়ানিভস্কা মেট্রোস্টেশনের নিচতলার প্রবেশপথের ছাদ ধসে পড়লে স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি ও দিনিপ্রো জেলাতেও আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ছোড়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ১২৫টি ড্রোনের মধ্যে ১০৮টিই ধ্বংস করা হয়েছে। ২০২২ সালে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে নিয়মিতভাবে কিয়েভে এমন হামলা চালিয়ে আসছে রুশ বাহিনী।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভ্লাদ নামের এক বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের সময় অ্যাপার্টমেন্টে থাকাকালীন বারান্দার দরজা ভেঙে তাঁর মাথায় পড়ে। তিনি নিজের দাদিকে নিয়ে অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরেন। এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নিজস্ব ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর তৈরির লাইসেন্স সংক্রান্ত রাজনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছেছে ইউক্রেন। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিদেশি মিত্রদের কাছ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাওয়ার চাপও বেড়েছে কিয়েভের ওপর।



























