ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে পরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিকার হয়েছি: জমিয়ত মহাসচিব আফেন্দী মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ভোলার ফয়জুল আলম নেত্রকোণায় গোরস্থানের গাছে মিলল নিখোঁজ সাবেক সেনাসদস্যের লাশ সিডনিতে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে শাবনূর, পাশে বসে গান শোনালেন রবি চৌধুরী মাদ্রাসাসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি বিএমজিটিএ-এর ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই মোহনগঞ্জে নিখোঁজ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের লাশ উদ্ধার, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ মেট্রোরেলের পিলারে আঁকা হবে খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদদের ছবি জমিসংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা, লালমনিরহাট বিএনপির নিন্দা আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারে ট্রানজিট রুট এখন বাংলাদেশ

তুরস্ক ও ইসরায়েলের সংঘাত কেন অনিবার্য হয়ে উঠছে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আবারও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। বিশ্বমঞ্চে দেওয়া ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সচেতনভাবেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তুর্কি বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল একটি সুচিন্তিত কূটনৈতিক কৌশল বা ‘আইনি ও নৈতিক কোয়ারেন্টিন’, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি নেতার কূটনৈতিক বৈধতা মুছে দেওয়া। নেতানিয়াহুকে উপেক্ষা করে এরদোয়ান তাঁর বক্তব্য মূলত গাজা, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার ওপর কেন্দ্রীভূত করেন এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

এর জবাবে জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এরদোয়ানকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, তুরস্ক ‘ইহুদিবিদ্বেষী মিথ্যা ছড়ানোর নতুন কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে এবং আঙ্কারা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংস্থা হামাসের নেতৃত্বকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে নেতানিয়াহু ভাষণ শুরু করতেই বহু দেশের প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান, যা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এরদোয়ানও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের’ জায়গা জাতিসংঘের মঞ্চে নয়, বরং আদালতের কাঠগড়ায়।

দুই দেশের এই বিরোধ এখন আর কেবল কূটনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালের আগস্টে তুরস্কের বিচার বিভাগ নেতানিয়াহুসহ আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই ইস্তাম্বুলের একটি আদালত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এছাড়া তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করেছে এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও তুরস্কের প্রতি তাদের বৈরিতা আর গোপন রাখছেন না। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ প্রকাশ করেছেন যে, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি ঠেকাতে ইসরায়েল প্রকাশ্যে ও নেপথ্যে কাজ করছে। স্মোটরিচ এরদোয়ানকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মানুষ এবং তুরস্ককে ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর পাশাপাশি, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার জন্য আইসিসিতে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত করতে একটি সরকারি আইনি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে কুর্দি নীতি এবং হামাসকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে।

আঞ্চলিক অঙ্গনেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্ট। গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনে সেনা পাঠাতে আঙ্কারার প্রস্তুতির কথা তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানালেও ইসরায়েল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সিরিয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে তুরস্কের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টার বিপরীতে ইসরায়েল সামরিক দখলদারিত্ব বাড়াচ্ছে। এমনকি ২০২৬ সালের আগস্টে তুর্কি সীমান্তের কাছে একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে আঙ্কারার প্রতি সরাসরি একটি বার্তা ছিল।

লেবাননে ২০২৬ সালের শেষে জাতিসংঘ মিশন ইউনিফিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্ক অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ইসরায়েল এতে ভেটো দেবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সাইপ্রাস সীমান্তে এই সংঘাত আরও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। ইসরায়েল, গ্রিস ও গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসন (জিসিএ) ২০২৬ সালে একটি যৌথ সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুর্কি সামরিক তৎপরতা প্রতিহত করতে একটি ‘র‍্যাপিড রিঅ্যাকশন ফোর্স’ গঠনের আলোচনা চালাচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত চারদিক থেকে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের এই শত্রুতামূলক নীতি ও উসকানি এটাই নির্দেশ করে যে, তুরস্ককে তারা একটি কৌশলগত বাধা হিসেবে দেখছে এবং তাকে দুর্বল করতে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। এটি কোনো সাময়িক বিরোধ নয় যা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব। এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী চক্রান্তের সামনে যারা বাধা হবে, তাদের ক্ষতি করতে ইসরায়েল পিছপা হবে না। ফলে সংঘাতটি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে পেছানোর পথ বন্ধ এবং তুরস্কের সামনেও এই নির্মম বাস্তবতা মেনে নিয়ে একটি অনিবার্য সংঘাতময় ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

তুরস্ক ও ইসরায়েলের সংঘাত কেন অনিবার্য হয়ে উঠছে

আপডেট সময় : ০৮:০২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আবারও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। বিশ্বমঞ্চে দেওয়া ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সচেতনভাবেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তুর্কি বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল একটি সুচিন্তিত কূটনৈতিক কৌশল বা ‘আইনি ও নৈতিক কোয়ারেন্টিন’, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি নেতার কূটনৈতিক বৈধতা মুছে দেওয়া। নেতানিয়াহুকে উপেক্ষা করে এরদোয়ান তাঁর বক্তব্য মূলত গাজা, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার ওপর কেন্দ্রীভূত করেন এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

এর জবাবে জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এরদোয়ানকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, তুরস্ক ‘ইহুদিবিদ্বেষী মিথ্যা ছড়ানোর নতুন কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে এবং আঙ্কারা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংস্থা হামাসের নেতৃত্বকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে নেতানিয়াহু ভাষণ শুরু করতেই বহু দেশের প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান, যা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এরদোয়ানও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের’ জায়গা জাতিসংঘের মঞ্চে নয়, বরং আদালতের কাঠগড়ায়।

দুই দেশের এই বিরোধ এখন আর কেবল কূটনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালের আগস্টে তুরস্কের বিচার বিভাগ নেতানিয়াহুসহ আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই ইস্তাম্বুলের একটি আদালত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এছাড়া তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করেছে এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও তুরস্কের প্রতি তাদের বৈরিতা আর গোপন রাখছেন না। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ প্রকাশ করেছেন যে, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি ঠেকাতে ইসরায়েল প্রকাশ্যে ও নেপথ্যে কাজ করছে। স্মোটরিচ এরদোয়ানকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মানুষ এবং তুরস্ককে ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর পাশাপাশি, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার জন্য আইসিসিতে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত করতে একটি সরকারি আইনি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে কুর্দি নীতি এবং হামাসকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে।

আঞ্চলিক অঙ্গনেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্ট। গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনে সেনা পাঠাতে আঙ্কারার প্রস্তুতির কথা তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানালেও ইসরায়েল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সিরিয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে তুরস্কের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টার বিপরীতে ইসরায়েল সামরিক দখলদারিত্ব বাড়াচ্ছে। এমনকি ২০২৬ সালের আগস্টে তুর্কি সীমান্তের কাছে একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে আঙ্কারার প্রতি সরাসরি একটি বার্তা ছিল।

লেবাননে ২০২৬ সালের শেষে জাতিসংঘ মিশন ইউনিফিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্ক অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ইসরায়েল এতে ভেটো দেবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সাইপ্রাস সীমান্তে এই সংঘাত আরও বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। ইসরায়েল, গ্রিস ও গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসন (জিসিএ) ২০২৬ সালে একটি যৌথ সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুর্কি সামরিক তৎপরতা প্রতিহত করতে একটি ‘র‍্যাপিড রিঅ্যাকশন ফোর্স’ গঠনের আলোচনা চালাচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত চারদিক থেকে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার কৌশল নিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের এই শত্রুতামূলক নীতি ও উসকানি এটাই নির্দেশ করে যে, তুরস্ককে তারা একটি কৌশলগত বাধা হিসেবে দেখছে এবং তাকে দুর্বল করতে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। এটি কোনো সাময়িক বিরোধ নয় যা আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব। এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী চক্রান্তের সামনে যারা বাধা হবে, তাদের ক্ষতি করতে ইসরায়েল পিছপা হবে না। ফলে সংঘাতটি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে পেছানোর পথ বন্ধ এবং তুরস্কের সামনেও এই নির্মম বাস্তবতা মেনে নিয়ে একটি অনিবার্য সংঘাতময় ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo