তেরো বছরের অপ্রতিমের জন্য রাষ্ট্রের কাছে কোনো কবিতা নেই
- আপডেট সময় : ০৫:৫৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

অপ্রতিমের বয়স ছিল তেরো। এই সংখ্যাটি আজ শহরের প্রতিটি সরকারি ভবনের দেয়ালে লিখে দেওয়ার মতো একটি বেদনার চিহ্ন। তেরো বছর বয়সে একটি শিশুর পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুর সাহচর্য, মায়ের হাতের রান্না, পরীক্ষার খাতা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংখ্য রঙিন স্বপ্ন। অথচ এই রাষ্ট্র তাকে তার ভবিষ্যৎসহ গিলে ফেলেছে। আজ আমরা সভ্য সমাজের মতো বসে তার মৃত্যুর কারণ খুঁজছি, কিন্তু সেই অনুসন্ধান কতটা অর্থবহ?
অপ্রতিমের জন্য কোনো স্মৃতিসৌধ, ফুলের মালা বা কোনো মন্ত্রীর লোক দেখানো সহানুভূতি প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রের ক্যামেরার সামনে উচ্চারিত সান্ত্বনা কোনো মৃত শিশুকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। অপ্রতিমের নিথর শরীর আমাদের দিকে একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—একটি শিশু যখন নিখোঁজ হয়, তখন তাকে খুঁজে বের করার জন্য রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্র কেন একই মুহূর্তে সক্রিয় হয় না? মন্ত্রীরা মাধবীদের নিয়ে কবিতা লিখতে বা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য খুঁজতে ব্যস্ত থাকতে পারেন, কিন্তু অপ্রতিমের জন্য একটি সরকারি নোটিশও কি লেখা যায় না?
তদন্ত চলছে বা আইন তার নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে—এমন সান্ত্বনা মায়ের কাছে অর্থহীন। মায়ের কাছে আইন কোনো বিমূর্ত শব্দ নয়; আইন মানে তার দরজায় ফিরে আসা সন্তানের পায়ের শব্দ। অপ্রতিমের ঘরে সেই শব্দ আর কখনো ফিরবে না। আজ আমাদের প্রশাসন ও ক্ষমতা একটি তেরো বছরের শিশুর খালি বিছানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কাউকে অপরাধী ঘোষণা করছি না, তবে আমি সেই সামাজিক নীরবতা ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে অভিযুক্ত করছি, যেখানে একটি শিশুর মৃত্যু মাত্র কয়েক ঘণ্টার শিরোনাম হয়ে থাকে এবং পরদিন আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যাই। অপ্রতিম কোনো দলের ছিল না, কোনো পতাকার ছিল না; সে ছিল কেবল মানুষ। তাই তার মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি না করে তাকে একজন মানুষ হিসেবে দেখা উচিত। মায়ের কান্নাকে পাশ কাটিয়ে কোনো রাষ্ট্র নিজেকে নিরাপদ দাবি করতে পারে না। আজ রাতে অপ্রতিমের স্কুলব্যাগটি নীরব, বইয়ের পাতাগুলো বন্ধ, আর তার কলমটি কোনো বাক্যের মাঝপথে থেমে আছে। সেই অসমাপ্ত বাক্যের পাশে বসে আজ শুধু একটি প্রশ্নই জাগে—আমরা কি এমন এক দেশ বানিয়েছি যেখানে তেরো বছরের শিশুরাও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারে না?





























