ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বয়স লুকিয়ে পর্দায় অভিনয় করবেন না দীপা খন্দকার হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে এনসিপি ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ পল্টন থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করল ডিএসসিসি নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই জাতিসংঘে প্রতিনিধিদের গণ-ওয়াকআউট জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০৫ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নাৎসি শিবিরের হত্যাকাণ্ডে তদন্ত জার্মানিতে মঞ্চে আসছে লাকী ইনামের নতুন নাটক ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ইসরাইলকে আরও একঘরে করেছে: মারওয়ান বিশারা হ্যাকিং ও প্রতারণা থেকে বাঁচতে অনলাইনে মেনে চলুন ৬ নিয়ম তরুণরাই বাংলাদেশ: আগামীর নেতৃত্ব দেবে এই প্রজন্ম

শিক্ষক হেনস্তা ও জিন্নাহপ্রীতি: ডাকসুর ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যর্থ বর্তমান নেতৃত্ব

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তার দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে সব দলের ছাত্রনেতাদের ঐক্যবদ্ধ করার বড় নজির স্থাপন করেছে। কিন্তু বর্তমান নেতৃবৃন্দ ডাকসুর সেই ঐতিহ্য ও নির্দলীয় চরিত্র বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ডাকসু সদস্যরা কখনো পুলিশের ভূমিকা নিয়েছেন, কখনো নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার করেছেন, আবার কখনোবা শিক্ষকদের সঙ্গে হঠকারী আচরণ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষক থাকা স্বাভাবিক, তবে দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে ডাকসু নেতাদের হাতে হেনস্তার বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত। যদিও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে নানা অভিযোগ ছিল, তবুও এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ডাকসুর বর্তমান কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত হলো তাদের সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে আলোকিত করে রাখা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা। এছাড়া সেখানে শেখ কামালের বিয়ের ছবি কেন রাখা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন সাংবাদিক সংগ্রহশালার সমন্বয়কারীকে শেখ মুজিবের ৭ মার্চ বা স্বাধীনতা আন্দোলনের ছবি কেন নেই জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন, 'ইচ্ছে হয়নি, তাই।' ডাকসু নেতৃবৃন্দের জিন্নাহপ্রীতি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেননি, যার ফলে তারা সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করেন এবং গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি টাঙিয়ে দেন।

শিক্ষকদের মূল্যায়ন করার জন্য ডাকসুর ওয়েবসাইট ও প্রশ্নমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এই উদ্যোগকে শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শিক্ষক মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও ডাকসু তা উপেক্ষা করে এই কাজ করছে, যা তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষক হেনস্তা ও জিন্নাহপ্রীতি: ডাকসুর ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যর্থ বর্তমান নেতৃত্ব

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তার দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে সব দলের ছাত্রনেতাদের ঐক্যবদ্ধ করার বড় নজির স্থাপন করেছে। কিন্তু বর্তমান নেতৃবৃন্দ ডাকসুর সেই ঐতিহ্য ও নির্দলীয় চরিত্র বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ডাকসু সদস্যরা কখনো পুলিশের ভূমিকা নিয়েছেন, কখনো নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার করেছেন, আবার কখনোবা শিক্ষকদের সঙ্গে হঠকারী আচরণ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষক থাকা স্বাভাবিক, তবে দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে ডাকসু নেতাদের হাতে হেনস্তার বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত। যদিও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে নানা অভিযোগ ছিল, তবুও এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ডাকসুর বর্তমান কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত হলো তাদের সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে আলোকিত করে রাখা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা। এছাড়া সেখানে শেখ কামালের বিয়ের ছবি কেন রাখা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন সাংবাদিক সংগ্রহশালার সমন্বয়কারীকে শেখ মুজিবের ৭ মার্চ বা স্বাধীনতা আন্দোলনের ছবি কেন নেই জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন, 'ইচ্ছে হয়নি, তাই।' ডাকসু নেতৃবৃন্দের জিন্নাহপ্রীতি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেননি, যার ফলে তারা সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করেন এবং গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি টাঙিয়ে দেন।

শিক্ষকদের মূল্যায়ন করার জন্য ডাকসুর ওয়েবসাইট ও প্রশ্নমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এই উদ্যোগকে শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শিক্ষক মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও ডাকসু তা উপেক্ষা করে এই কাজ করছে, যা তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo