ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বনশ্রীতে কুকুরকে খাওয়াতে গিয়ে তরুণীকে মারধর, থানায় অভিযোগ ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

বাব আল-মানদেবের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইয়েমেনের কৌশলগত মোকা শহর ও ধুবাবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই লড়াই কেবল স্থানীয় সংঘাত নয়, বরং তায়েজ থেকে উপকূলীয় এলাকা এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি বৃহৎ যুদ্ধ। মোকা শহর দখলের মাধ্যমে হুতিরা তায়েজ ও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ধুবাবে তাদের অবস্থান সুসংহত হওয়ায় সরাসরি বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নজরদারি ও চাপ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে ইরান ও তার মিত্রদের প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হুতিদের এই অগ্রযাত্রা হুতিবিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। গত ৩ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৭৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি) প্রকল্প। এই অগ্রযাত্রার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি বাহিনী ইতিমধ্যে মোকা বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের ড্রোন, গোলাবারুদ ও জনবলের সক্ষমতা হ্রাস করা। তবে মোকা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পিছু হটাকে সামরিকভাবে পুনর্গঠন বলা হলেও এর রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য অনেক বেশি। এর ফলে হুতিরা দ্রুত গতি পেয়ে বাব আল-মানদেবের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

ইরান যদি হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও হুতিদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির দুটি প্রধান পথই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে বাধ্য হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের ওপর হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি না হয়ে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে চাইছে আর যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে নতুন সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও অযুদ্ধ সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।

হুতিবিরোধী শিবিরের প্রধান দুর্বলতা হলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ, তারেক সালেহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স, তায়েজের স্থানীয় বাহিনী এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক নয়। এমনকি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইয়েমেন-ভাবনাতেও অমিল রয়েছে। কেউ ইয়েমেনে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, আবার কেউ দক্ষিণের স্বায়ত্তশাসন বা বন্দর ও উপকূলের নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এই বিভাজনের সুযোগ নিয়েই হুতিরা দ্রুত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই অগ্রযাত্রা হুতিদের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। দক্ষিণে অগ্রসর হওয়ার ফলে তাদের সরবরাহপথ দীর্ঘ হচ্ছে, যা বিমান হামলা ও পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া মোকা ও ধুবাব অঞ্চলের সড়ক, বন্দর ও স্থানীয় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা সামলানোও তাদের জন্য কঠিন হবে। গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতার জন্যও এটি একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ও নির্ভুল হামলার কার্যকারিতা বারবার দেখা গেলেও সৌদি আরব সেই শিক্ষা যথেষ্ট গ্রহণ করেনি।

এতে বোঝা যায়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে চাইছে আর যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে নতুন সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও অযুদ্ধ সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।.এর ফলে সৌদি আরব যেন ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুতে ফিরে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বাব আল-মানদেবের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ০২:১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের কৌশলগত মোকা শহর ও ধুবাবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই লড়াই কেবল স্থানীয় সংঘাত নয়, বরং তায়েজ থেকে উপকূলীয় এলাকা এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি বৃহৎ যুদ্ধ। মোকা শহর দখলের মাধ্যমে হুতিরা তায়েজ ও ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ধুবাবে তাদের অবস্থান সুসংহত হওয়ায় সরাসরি বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নজরদারি ও চাপ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে ইরান ও তার মিত্রদের প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হুতিদের এই অগ্রযাত্রা হুতিবিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। গত ৩ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৭৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি) প্রকল্প। এই অগ্রযাত্রার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি বাহিনী ইতিমধ্যে মোকা বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের ড্রোন, গোলাবারুদ ও জনবলের সক্ষমতা হ্রাস করা। তবে মোকা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পিছু হটাকে সামরিকভাবে পুনর্গঠন বলা হলেও এর রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য অনেক বেশি। এর ফলে হুতিরা দ্রুত গতি পেয়ে বাব আল-মানদেবের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

ইরান যদি হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও হুতিদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির দুটি প্রধান পথই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে রিয়াদ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে বাধ্য হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের ওপর হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রাজি না হয়ে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে চাইছে আর যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে নতুন সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও অযুদ্ধ সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।

হুতিবিরোধী শিবিরের প্রধান দুর্বলতা হলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ, তারেক সালেহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স, তায়েজের স্থানীয় বাহিনী এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক নয়। এমনকি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইয়েমেন-ভাবনাতেও অমিল রয়েছে। কেউ ইয়েমেনে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, আবার কেউ দক্ষিণের স্বায়ত্তশাসন বা বন্দর ও উপকূলের নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এই বিভাজনের সুযোগ নিয়েই হুতিরা দ্রুত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই অগ্রযাত্রা হুতিদের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। দক্ষিণে অগ্রসর হওয়ার ফলে তাদের সরবরাহপথ দীর্ঘ হচ্ছে, যা বিমান হামলা ও পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া মোকা ও ধুবাব অঞ্চলের সড়ক, বন্দর ও স্থানীয় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা সামলানোও তাদের জন্য কঠিন হবে। গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতার জন্যও এটি একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ও নির্ভুল হামলার কার্যকারিতা বারবার দেখা গেলেও সৌদি আরব সেই শিক্ষা যথেষ্ট গ্রহণ করেনি।

এতে বোঝা যায়, সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়াতে চাইছে আর যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে নতুন সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও অযুদ্ধ সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।.এর ফলে সৌদি আরব যেন ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুতে ফিরে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo