ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার

বায়োইনফরমেটিক্স: জীবনের জটিল তথ্য বোঝার আধুনিক বিজ্ঞান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



একসময় জীববিজ্ঞানের গবেষণা বলতে কেবল মাইক্রোস্কোপ, টেস্টটিউব আর গবেষণাগারকে বোঝাতো। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষে সেই চিত্র এখন আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। আধুনিক জীববিজ্ঞানের মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা নয়, বরং সেই তথ্যের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান খুঁজে বের করা। এই প্রেক্ষাপটেই বায়োইনফরমেটিক্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বায়োইনফরমেটিক্স হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, গণিত ও পরিসংখ্যানের এক সমন্বিত বিজ্ঞান, যা ডিএনএ, জিন ও প্রোটিনের মতো জৈবিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের কাজ করে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের মতে, এটি কম্পিউটেশনাল পদ্ধতিতে জৈবিক তথ্যের ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞান। ডিএনএকে একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কল্পনা করলে, বায়োইনফরমেটিক্স গবেষকদের সেই জিনগত তথ্য তুলনা করা, নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তন শনাক্ত করা এবং জৈবিক সম্পর্কগুলো খুঁজে বের করার সুযোগ করে দেয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বায়োইনফরমেটিক্সের অবদান ক্রমবর্ধমান। রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন শনাক্তকরণ, ক্যানসারের আণবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং নতুন ওষুধের অণু খুঁজে বের করার কাজে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে কম্পিউটার বিশ্লেষণে কোনো অণুকে সম্ভাবনাময় মনে হলেও, চূড়ান্ত স্বীকৃতির জন্য পরবর্তীতে পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক যাচাই আবশ্যক।

বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে বায়োইনফরমেটিক্স প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল উন্নত ফসল উদ্ভাবনে উদ্ভিদের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করা জরুরি। বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রটি এখনো বিকাশমান হলেও কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে আশা জাগাচ্ছে। ডন অফ বায়োইনফরমেটিক্স লিমিটেড তাদের ডনিল্যাব গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে জিনোমিক্স ও কম্পিউটেশনাল ড্রাগ ডিজাইন নিয়ে কাজ করছে। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি উদ্যোগ হলো ‘বাংলাদেশী মেডিসিনাল প্ল্যান্ট ফাইটোকেমিক্যাল ডাটাবেইজ’ (বিএমপিপিডি)। দুই বছরের গবেষণায় তৈরি এই ডেটাবেজে বর্তমানে ৭০০-এর বেশি ঔষধি উদ্ভিদ, প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ ফাইটোকেমিক্যাল এন্ট্রি এবং প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০টি ইউনিক ফাইটোকেমিক্যাল কম্পাউন্ডের তথ্য রয়েছে।

এই ডেটাবেজটি বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের লোকজ জ্ঞানকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপযোগী করতে সহায়তা করছে। তবে গবেষণার প্রকৃত অগ্রগতির জন্য দক্ষ গবেষক, আধুনিক কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং ও পরিসংখ্যান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের জৈবিক সমস্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যতের জীববিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বায়োইনফরমেটিক্সকে আরো বিস্তৃত করছে। বাংলাদেশের নিজস্ব জীবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ডেটা ও অবকাঠামো গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য। বায়োইনফরমেটিক্স কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, এটি আমাদের কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ গবেষণার একটি সম্ভাবনাময় নতুন পথ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

বায়োইনফরমেটিক্স: জীবনের জটিল তথ্য বোঝার আধুনিক বিজ্ঞান

আপডেট সময় : ০২:০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় জীববিজ্ঞানের গবেষণা বলতে কেবল মাইক্রোস্কোপ, টেস্টটিউব আর গবেষণাগারকে বোঝাতো। তবে প্রযুক্তির উৎকর্ষে সেই চিত্র এখন আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। আধুনিক জীববিজ্ঞানের মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা নয়, বরং সেই তথ্যের ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান খুঁজে বের করা। এই প্রেক্ষাপটেই বায়োইনফরমেটিক্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বায়োইনফরমেটিক্স হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, গণিত ও পরিসংখ্যানের এক সমন্বিত বিজ্ঞান, যা ডিএনএ, জিন ও প্রোটিনের মতো জৈবিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের কাজ করে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের মতে, এটি কম্পিউটেশনাল পদ্ধতিতে জৈবিক তথ্যের ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞান। ডিএনএকে একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কল্পনা করলে, বায়োইনফরমেটিক্স গবেষকদের সেই জিনগত তথ্য তুলনা করা, নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তন শনাক্ত করা এবং জৈবিক সম্পর্কগুলো খুঁজে বের করার সুযোগ করে দেয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বায়োইনফরমেটিক্সের অবদান ক্রমবর্ধমান। রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন শনাক্তকরণ, ক্যানসারের আণবিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ এবং নতুন ওষুধের অণু খুঁজে বের করার কাজে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে কম্পিউটার বিশ্লেষণে কোনো অণুকে সম্ভাবনাময় মনে হলেও, চূড়ান্ত স্বীকৃতির জন্য পরবর্তীতে পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক যাচাই আবশ্যক।

বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে বায়োইনফরমেটিক্স প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল উন্নত ফসল উদ্ভাবনে উদ্ভিদের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করা জরুরি। বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রটি এখনো বিকাশমান হলেও কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে আশা জাগাচ্ছে। ডন অফ বায়োইনফরমেটিক্স লিমিটেড তাদের ডনিল্যাব গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে জিনোমিক্স ও কম্পিউটেশনাল ড্রাগ ডিজাইন নিয়ে কাজ করছে। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি উদ্যোগ হলো ‘বাংলাদেশী মেডিসিনাল প্ল্যান্ট ফাইটোকেমিক্যাল ডাটাবেইজ’ (বিএমপিপিডি)। দুই বছরের গবেষণায় তৈরি এই ডেটাবেজে বর্তমানে ৭০০-এর বেশি ঔষধি উদ্ভিদ, প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ ফাইটোকেমিক্যাল এন্ট্রি এবং প্রায় ৬৩ হাজার ৯০০টি ইউনিক ফাইটোকেমিক্যাল কম্পাউন্ডের তথ্য রয়েছে।

এই ডেটাবেজটি বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের লোকজ জ্ঞানকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপযোগী করতে সহায়তা করছে। তবে গবেষণার প্রকৃত অগ্রগতির জন্য দক্ষ গবেষক, আধুনিক কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং ও পরিসংখ্যান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের জৈবিক সমস্যা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যতের জীববিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বায়োইনফরমেটিক্সকে আরো বিস্তৃত করছে। বাংলাদেশের নিজস্ব জীবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ডেটা ও অবকাঠামো গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য। বায়োইনফরমেটিক্স কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, এটি আমাদের কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ গবেষণার একটি সম্ভাবনাময় নতুন পথ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin