ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ দলবাজ ও দলদাসের সূক্ষ্ম পার্থক্য নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ গোপন সূচির রোমাঞ্চ নিয়ে বসছে ৫৩তম টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন: রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে দৌড়বিদের মিলনমেলা ইন্টার মায়ামির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিলি গঞ্জালেস প্রকৌশলী অধিকার দিবস উপলক্ষে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে ৩২তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ বিএনপি সরকার ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে: সারজিস আলম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ৬ মাস: লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ওয়াশিংটন, অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী হত্যা: ১৫ খণ্ড মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন

মশার কামড় থেকে হতে পারে মরণব্যাধি, বাড়ছে জনসচেতনতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মশা কেবল মানুষকে বিরক্তই করে না, বরং এটি বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম আতঙ্কময় প্রাণী। একটি সাধারণ মশার কামড়ও মানুষের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, জিকা ভাইরাস ও হলুদ জ্বরের মতো মারাত্মক রোগ ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে মশার কারণেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহ আলম ৪২ বছর শিক্ষকতার পর ২০১৬ সালে অবসরে যান। ২০০০ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের সময় তিনি এই রোগের বাহক এডিস মশা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং নগরীতে প্রচারপত্র বিলি করেছিলেন। ড. শাহ আলমের মতে, রাষ্ট্র এডিস মশা নিয়ে গবেষণাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। অথচ ১৯৭০ সালেই ঢাকায় এই রোগের বাহক হিসেবে এডিস মশা শনাক্ত হয়েছিল। গবেষণার ওপর জোর দিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশে এই ‘ক্রাইসিস পিরিয়ড’ তৈরি হতো না। তার মতে, ডেঙ্গু সংক্রমণের পর চিকিৎসার চেয়ে এডিস মশা মোকাবিলা করা বেশি জরুরি।

মশা পুরোপুরি ধ্বংস করা বিজ্ঞানের বর্তমান সক্ষমতার বাইরে। ডিডিটি বা শক্তিশালী কীটনাশক জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় অনেক দেশে নিষিদ্ধ। ১৯৫০-৬০ দশকে লাতিন আমেরিকায় মশা দূর করতে ব্যাপক হারে ডিডিটিসহ শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছিল। কিছু সময়ের জন্য মশা দূর হলেও পরে তা আবার ফিরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েসের মশক নিধন কর্মসূচির কর্মকর্তা রজার এস নেস্কির মতে, পৃথিবীর সব মশা মেরে ফেলা অসম্ভব। কোনো দেশ বা শহর কর্তৃপক্ষ যতই কীটনাশক ব্যবহার করুক না কেন, কিছু মশা রয়েই যায় এবং তা থেকে আবার বিপুল পরিমাণ মশা তৈরি হয়। তবে ব্যাকটেরিয়া ছিটিয়ে মশার বাসস্থান নষ্ট করা বা রোগ ছড়ানো মশা মারার নতুন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা প্রজনন নিষ্ক্রিয় পুরুষ মশা ব্যবহারের একটি কৌশলের কথা জানিয়েছেন, যা জার্নাল অব ইনসেক্ট সাইন্সে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রতি বছর ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়। ১৯৩০ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট ব্রিটিশ চিকিৎসক রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেন, যার জন্য তিনি নোবেল পান। তার সম্মানে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি পালন শুরু করে। ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপের কারণে বাংলাদেশে সম্প্রতি এই দিবসের গুরুত্ব বেড়েছে এবং এবারই প্রথম বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতি বছর মশাবাহিত রোগে প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ মারা যায়।

মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ম্যালেরিয়া অন্যতম, যা স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণ কামড়ানোর ১০-১৫ দিন পর এর লক্ষণ যেমন জ্বর ও মাথাব্যথা প্রকাশ পায়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ২৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন, যার ৯৫ শতাংশ সংক্রমণ ও ৯৬ শতাংশ মৃত্যু আফ্রিকায় ঘটে। এছাড়া ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের কোনো উপসর্গ না থাকলেও এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ইয়েলো ফিভার বা পীতজ্বর এডিস ও হিমোগগাস মশার কামড়ে হয়, যা যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত করে জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে। চিকুনগুনিয়া মূলত এডিস অ্যালবোপিকটাস বা এশিয়ান টাইগার মশার কামড়ে ছড়ায়। এর এখনো কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। জ্বরের সঙ্গে হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা এর প্রধান উপসর্গ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মশার কামড় থেকে হতে পারে মরণব্যাধি, বাড়ছে জনসচেতনতা

আপডেট সময় : ০২:২৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মশা কেবল মানুষকে বিরক্তই করে না, বরং এটি বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম আতঙ্কময় প্রাণী। একটি সাধারণ মশার কামড়ও মানুষের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, জিকা ভাইরাস ও হলুদ জ্বরের মতো মারাত্মক রোগ ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে মশার কারণেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহ আলম ৪২ বছর শিক্ষকতার পর ২০১৬ সালে অবসরে যান। ২০০০ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের সময় তিনি এই রোগের বাহক এডিস মশা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এবং নগরীতে প্রচারপত্র বিলি করেছিলেন। ড. শাহ আলমের মতে, রাষ্ট্র এডিস মশা নিয়ে গবেষণাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। অথচ ১৯৭০ সালেই ঢাকায় এই রোগের বাহক হিসেবে এডিস মশা শনাক্ত হয়েছিল। গবেষণার ওপর জোর দিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশে এই ‘ক্রাইসিস পিরিয়ড’ তৈরি হতো না। তার মতে, ডেঙ্গু সংক্রমণের পর চিকিৎসার চেয়ে এডিস মশা মোকাবিলা করা বেশি জরুরি।

মশা পুরোপুরি ধ্বংস করা বিজ্ঞানের বর্তমান সক্ষমতার বাইরে। ডিডিটি বা শক্তিশালী কীটনাশক জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় অনেক দেশে নিষিদ্ধ। ১৯৫০-৬০ দশকে লাতিন আমেরিকায় মশা দূর করতে ব্যাপক হারে ডিডিটিসহ শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছিল। কিছু সময়ের জন্য মশা দূর হলেও পরে তা আবার ফিরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েসের মশক নিধন কর্মসূচির কর্মকর্তা রজার এস নেস্কির মতে, পৃথিবীর সব মশা মেরে ফেলা অসম্ভব। কোনো দেশ বা শহর কর্তৃপক্ষ যতই কীটনাশক ব্যবহার করুক না কেন, কিছু মশা রয়েই যায় এবং তা থেকে আবার বিপুল পরিমাণ মশা তৈরি হয়। তবে ব্যাকটেরিয়া ছিটিয়ে মশার বাসস্থান নষ্ট করা বা রোগ ছড়ানো মশা মারার নতুন পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা প্রজনন নিষ্ক্রিয় পুরুষ মশা ব্যবহারের একটি কৌশলের কথা জানিয়েছেন, যা জার্নাল অব ইনসেক্ট সাইন্সে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

প্রতি বছর ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়। ১৯৩০ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট ব্রিটিশ চিকিৎসক রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেন, যার জন্য তিনি নোবেল পান। তার সম্মানে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি পালন শুরু করে। ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপের কারণে বাংলাদেশে সম্প্রতি এই দিবসের গুরুত্ব বেড়েছে এবং এবারই প্রথম বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতি বছর মশাবাহিত রোগে প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ মারা যায়।

মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ম্যালেরিয়া অন্যতম, যা স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণ কামড়ানোর ১০-১৫ দিন পর এর লক্ষণ যেমন জ্বর ও মাথাব্যথা প্রকাশ পায়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ২৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন, যার ৯৫ শতাংশ সংক্রমণ ও ৯৬ শতাংশ মৃত্যু আফ্রিকায় ঘটে। এছাড়া ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশের কোনো উপসর্গ না থাকলেও এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ইয়েলো ফিভার বা পীতজ্বর এডিস ও হিমোগগাস মশার কামড়ে হয়, যা যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত করে জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে। চিকুনগুনিয়া মূলত এডিস অ্যালবোপিকটাস বা এশিয়ান টাইগার মশার কামড়ে ছড়ায়। এর এখনো কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। জ্বরের সঙ্গে হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথা, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা এর প্রধান উপসর্গ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh