নাসিরনগরে কিশোরীকে আটকে রেখে নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরীকে বাড়িতে আটকে রেখে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৩ বছর বয়সী এই কিশোরীর বাবা দিনমজুর এবং মা সিলেটে কাজ করেন। পরিবারটির আর্থিক সংকট থাকায় এক বছর আগে কিশোরীকে দূর সম্পর্কের এক প্রয়াত ফুফার বাড়িতে কাজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌনকাজ করানোর চেষ্টা করা হতো এবং রাজি না হলে তাকে শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হতো।
ঘটনার ১০ থেকে ১২ দিন আগে কিশোরীটি পালিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। গত বুধবার সন্ধ্যায় সে বাড়ি থেকে বের হলে অভিযুক্ত পরিবারের লোকজন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর একটি কক্ষে আটকে মুখ বেঁধে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গরম খুন্তি ও চামচ দিয়ে কিশোরীর ডান ও বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে এবং পিঠে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। তার ডান পায়েও আঘাত করা হয়। কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করেন। ভুক্তভোগীর শরীরের নির্যাতনের চিহ্নগুলো কয়েকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কিশোরীর দুই চাচা অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসেন। সেখানে ৫০ হাজার টাকায় ঘটনাটি রফাদফা করার সিদ্ধান্ত হয়। অভিযুক্তরা ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে কিশোরীর চাচারা চিকিৎসার জন্য তাকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিশোরীর চাচা অবশ্য টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি পুরো টাকা ভাতিজিকে দিয়ে দিয়েছেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার কোনো অভিযোগ করতে রাজি নয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন এবং তাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

























