অনুমতি ছাড়াই মিশন ছেড়ে অন্য দেশে চার গোয়েন্দা কর্মকর্তা
- আপডেট সময় : ১০:০৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত চারজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য না জানিয়েই গোপনে তৃতীয় দেশে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের কাছে বর্তমানে এই কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
নিখোঁজ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সর্বশেষ গত জুলাই মাসে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এর আগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও দুবাই মিশন থেকে আরও তিন কর্মকর্তা অন্য দেশে পাড়ি জমান।
কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে, নয়াদিল্লি হাইকমিশনের কনসুলার শাখায় কর্মরত আশরাফ হোসেন সপরিবার বাংলাদেশে ফিরে আসার কথা বলে মিশন ত্যাগ করেছিলেন। দেশে ফেরার টিকিট কাটার পাশাপাশি তিনি মিশনে আনুষ্ঠানিক বিদায়ও নেন। কিন্তু দেশে না ফিরে তিনি গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তিনি তার বিভাগে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনও জমা দেননি। আশরাফ হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পেছনে নয়াদিল্লি মিশনের দেওয়া ‘নোট ভারবাল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মিশনের সহযোগিতা ছাড়া কীভাবে তিনি মার্কিন ভিসা পেলেন এবং মিশন থেকে তার নামে নোট ভারবাল দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একইভাবে নয়াদিল্লি হাইকমিশনের উপপরিচালক (ডিডি) নাসিরউদ্দিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লি থেকে দেশে ফেরেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ না দিয়ে সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তার ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনসুলার শাখার মাধ্যমে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কর্মকর্তার তৃতীয় দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভিসা প্রক্রিয়াকালে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস মিশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে এই দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে কীভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হলো এবং এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশ ৫ আগস্টের পর লন্ডনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। এমনকি ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের একটি পদে ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, দুবাই মিশনে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলামও ৫ আগস্টের পর দুবাই থেকে তৃতীয় কোনো দেশে চলে গেছেন। সূত্রের দাবি, এই চার কর্মকর্তাই ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই বিষয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এছাড়া উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বিদেশের মিশনগুলোতে কনসুলার শাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। ফলে এই শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এভাবে তৃতীয় দেশে চলে যাওয়া এবং তাদের জন্য মিশন থেকে নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।



























