রাজশাহীতে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩৫। রাজশাহীর ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ও তৎপরতায় পুরো জেলায় নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতে জামায়াতে ইসলামী বেশ এগিয়ে রয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, জেলার ৭২টি ইউনিয়নের মধ্যে তারা ইতিমধ্যে ৬৮টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রাজশাহী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম মুর্তূজা বলেন, জেলার ৬৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬০টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি চার ইউনিয়নের প্রার্থী শিগগির ঘোষণা করা হবে। এছাড়া রাজশাহী মহানগরীর আওতাধীন আটটি ইউনিয়নেও তারা প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।
জামায়াতের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি আনুগত্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোহনপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল আওয়াল জানিয়েছেন, তাদের উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রার্থীরা এখন গণসংযোগ ও কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কোনো কোনো নেতার মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে চায় দলটি।
অন্যদিকে, বিএনপি এখনো কোনো ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। কোনো কোনো ইউনিয়নে ৭ থেকে ১২ জন পর্যন্ত নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা একে দলের দুর্বলতা হিসেবে না দেখে বরং দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচনি মাঠে ফেরার আগ্রহ হিসেবেই দেখছেন।
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ এমপি জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। গত মাসে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট থানার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রার্থী বাছাইয়ে শুধু ব্যক্তিগত প্রভাব বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা নয়, বরং দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, মামলা-হয়রানির শিকার হওয়া, সততা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশা করছেন, যাচাই-বাছাই শেষে একক প্রার্থী ঘোষণা হলে দলের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকায় অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও বিভাজনের একটি ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই রাজশাহীর ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।




























