নাটোরে শিশুর আঙুল কাটার অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের শাহাদাত আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটিকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর শহরের একটি এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন এবং শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়।
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান জানান, শিশুটিকে ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কনস্টেবল নাটোরে কর্মরত এবং তিনি ভুক্তভোগী শিশুর বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। বুধবার রাতে ওই বাড়িতে একটি পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়, যা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে ওই কনস্টেবল শিশুটিকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরই শিশুটি তার ডান হাতের একটি বিচ্ছিন্ন আঙুল নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিজের বাসায় ফিরে আসে। শিশুটি তার মাকে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির বাবা একটি ব্যাংকে কর্মরত। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ কনস্টেবলের বাসায় গিয়ে তালাবদ্ধ থাকায় তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ এবং মেঝেতে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত কনস্টেবল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন যে, শিশুটি তাঁর মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। এরপরই তারা মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, শিশুটির মা-বাবা লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি, তবে পুলিশ শিশুদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বড়দের এমন প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। শিশুটির বাবা জানান, একই বাড়িতে বসবাসের সুবাদে তাদের মধ্যে নিয়মিত চলাফেরা ছিল এবং পিকনিকের ঘটনাটি তেমন বড় কোনো বিষয় ছিল না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।



























