ঢাকা ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ঘণ্টার বৈঠক, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ডিএসইর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার জরিমানা মওকুফ চায় প্রাইম ফাইন্যান্স সচিবদের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী, সম্মানি বাড়ানোর উদ্যোগ টাঙ্গাইলে ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস তালিয়াফিকো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম আতঙ্ক পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের দাবি ও সদকার সওয়াব গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মালয়েশিয়ায় তিন বাংলাদেশি খুন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মালয়েশিয়ার পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গি এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিন বাংলাদেশি প্রবাসী। ঘটনার দেড় মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হয় এবং স্বজনরা তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন। এখন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার নৌকাঘাটা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে কিরন মিয়া এবং একই উপজেলার ধনাইয়া গ্রামের সাইজুল ইসলামের ছেলে মোহশিন মিয়া। নিহত অপরজন নজরুল ইসলাম। তারা চারজন—কিরন, মোহশিন, নজরুল এবং অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলী—একই মালিকের বাগানে কাজ করতেন এবং তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়িতে একত্রে বসবাস করতেন। কিরন মিয়া ১৮ বছর আগে এবং মোহশিন মিয়া চার বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ আগস্ট বিকেলে নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিরন, মোহশিন ও নজরুলকে হত্যা করেন। এ সময় মো. কাজল মণ্ডল নামে আরেক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন, যিনি বর্তমানে রেমবাউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই মালয়েশিয়ার লিঙ্গি থানা পুলিশ ইদ্রিছ আলীকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে।

নিহতদের পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মোহশিনের মরদেহ ১২ সেপ্টেম্বর নিজ গ্রামে আনা হলে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। ছোট বোনকে হারানোর অল্প কিছুদিনের মাথায় একমাত্র উপার্জনক্ষম ভাইকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা তার মা শাহানা বেগম ও ভাই রুবেল। অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর কিরন মিয়ার মরদেহ শিবপুরের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। কিরনের ভাই হারুন অর রশিদ জানান, তার ভাই পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ জোগাতে সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু নিজের জন্য কোনো সঞ্চয় রাখতে পারেননি। এমনকি একটি পাকা ঘরও করতে পারেননি। এখন সরকারি সহায়তা ছাড়া অসহায় পরিবারটির বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মোহশিনের ভাই রুবেল জানান, বাবা আগেই মারা গেছেন এবং কিছুদিন আগে ছোট বোনকেও হারিয়েছেন তারা। এই ভাইটিই ছিল পরিবারের একমাত্র আশার আলো।

মালয়েশিয়া পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনজনকে হত্যার পাশাপাশি কাজল মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী তিনি মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১২টি বেত্রাঘাতের সম্মুখীন হতে পারেন।

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ১৫আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ২৫

অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর কিরন মিয়ার লাশ শিবপুরের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। ৯ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ কিরন পরিবারে স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। সংসারের একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ায় তিন বাংলাদেশি খুন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের

আপডেট সময় : ০৯:২৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গি এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিন বাংলাদেশি প্রবাসী। ঘটনার দেড় মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হয় এবং স্বজনরা তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন। এখন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার নৌকাঘাটা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে কিরন মিয়া এবং একই উপজেলার ধনাইয়া গ্রামের সাইজুল ইসলামের ছেলে মোহশিন মিয়া। নিহত অপরজন নজরুল ইসলাম। তারা চারজন—কিরন, মোহশিন, নজরুল এবং অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলী—একই মালিকের বাগানে কাজ করতেন এবং তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়িতে একত্রে বসবাস করতেন। কিরন মিয়া ১৮ বছর আগে এবং মোহশিন মিয়া চার বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ আগস্ট বিকেলে নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিরন, মোহশিন ও নজরুলকে হত্যা করেন। এ সময় মো. কাজল মণ্ডল নামে আরেক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন, যিনি বর্তমানে রেমবাউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই মালয়েশিয়ার লিঙ্গি থানা পুলিশ ইদ্রিছ আলীকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে।

নিহতদের পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মোহশিনের মরদেহ ১২ সেপ্টেম্বর নিজ গ্রামে আনা হলে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। ছোট বোনকে হারানোর অল্প কিছুদিনের মাথায় একমাত্র উপার্জনক্ষম ভাইকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা তার মা শাহানা বেগম ও ভাই রুবেল। অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর কিরন মিয়ার মরদেহ শিবপুরের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। কিরনের ভাই হারুন অর রশিদ জানান, তার ভাই পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ জোগাতে সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু নিজের জন্য কোনো সঞ্চয় রাখতে পারেননি। এমনকি একটি পাকা ঘরও করতে পারেননি। এখন সরকারি সহায়তা ছাড়া অসহায় পরিবারটির বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মোহশিনের ভাই রুবেল জানান, বাবা আগেই মারা গেছেন এবং কিছুদিন আগে ছোট বোনকেও হারিয়েছেন তারা। এই ভাইটিই ছিল পরিবারের একমাত্র আশার আলো।

মালয়েশিয়া পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনজনকে হত্যার পাশাপাশি কাজল মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী তিনি মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১২টি বেত্রাঘাতের সম্মুখীন হতে পারেন।

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ১৫আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ২৫

অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর কিরন মিয়ার লাশ শিবপুরের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। ৯ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ কিরন পরিবারে স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। সংসারের একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh