টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য ও বুননশিল্প নিয়ে জাদুঘরে চার দিনের মেলা
- আপডেট সময় : ০১:৩১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ বুননশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে চার দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজনের সূচনা হয়েছে। ‘ঐতিহ্য, সম্প্রীতি, তাঁত: টাঙ্গাইলের তাঁতের ঐতিহ্য উদ্যাপন’ শীর্ষক এই আয়োজনে প্রদর্শনী ও টাঙ্গাইল শাড়ির মেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন, জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই শিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রসার ঘটানো। মূলত ইউনেসকোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি রিপ্রেজেন্টেটিভ’ তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ির বুননশিল্প অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে শনিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। তিনি বলেন, তাঁতশিল্পের পাশাপাশি আমাদের আরও বেশ কিছু ঐতিহ্য ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। পরিবর্তিত এই বিশ্ব ও ফ্যাশন ধারণার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি। আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব আলিফ রুদাবা এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রধান সুজান ভাইস।
সুজান ভাইস তার বক্তব্যে টাঙ্গাইল শাড়ি বুননকে ‘জীবন্ত ঐতিহ্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এটি মানুষের দক্ষতা, জীবিকা ও বিশ্বজনীন সহনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানান, তাঁতিদের কাছ থেকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই শিল্পের ইতিহাস পৌঁছে দিতে তরুণ ডিজাইনার ও গবেষকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা জরুরি।
শনিবার বেলা একটা থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে এবং শাড়ির মেলা গ্যালারির সংলগ্ন লবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য এই আয়োজন উন্মুক্ত থাকবে।



























