ঢাকা ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ঘণ্টার বৈঠক, নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ডিএসইর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার জরিমানা মওকুফ চায় প্রাইম ফাইন্যান্স সচিবদের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী, সম্মানি বাড়ানোর উদ্যোগ টাঙ্গাইলে ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস তালিয়াফিকো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম আতঙ্ক পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের দাবি ও সদকার সওয়াব গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের ভুল ছবি, সমালোচনার মুখে পরিবর্তন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে প্রদর্শিত ছয়জন কবি ও সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে যে ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই সঠিক নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ ছবিগুলো সরিয়ে সেখানে নতুন ছবি সংযুক্ত করেছে।

সংগ্রহশালার ওই ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল এবং ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নাম ও ছবি ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর জানিয়েছেন, জসীমউদ্‌দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং আসাদ চৌধুরীর নামের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাঁদের নয়। এছাড়া আবুল ফজলের ছবিটিও তাঁর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, একমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবির সঙ্গে তাঁর চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক তারিক মনজুর এ বিষয়ে আরও মন্তব্য করেন যে, ছবিগুলো দেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের এই অসম্পূর্ণ তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ডাকসু কর্তৃপক্ষের দাবি, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং নকশা করার সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে চেহারায় পরিবর্তন চলে আসে। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা জানান, ডিজাইনারকে ছবি দেওয়ার পর মান বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় দু-তিনটি ছবির চেহারা এক রকম হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ছবির কোয়ালিটি এনহ্যান্স করতে গিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর ডিজাইনারের মাধ্যমে নতুন ছবি সংগ্রহ করে তা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ডাকসুর এই সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়ার পাশাপাশি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও সেখানে রাখা হয়েছে। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে ১৪ সেপ্টেম্বর একজন শিক্ষার্থী তিনটি ছবিই ছিঁড়ে ফেলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা সেখানে গোলাম আযমের জুতাপেটা করার ছবি টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানোর ঘটনা তদন্তে ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাকসু সংগ্রহশালায় ছয় সাহিত্যিকের ভুল ছবি, সমালোচনার মুখে পরিবর্তন

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে প্রদর্শিত ছয়জন কবি ও সাহিত্যিকের নামের সঙ্গে যে ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই সঠিক নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ ছবিগুলো সরিয়ে সেখানে নতুন ছবি সংযুক্ত করেছে।

সংগ্রহশালার ওই ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল এবং ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নাম ও ছবি ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর জানিয়েছেন, জসীমউদ্‌দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং আসাদ চৌধুরীর নামের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিগুলো তাঁদের নয়। এছাড়া আবুল ফজলের ছবিটিও তাঁর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, একমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবির সঙ্গে তাঁর চেহারার কিছুটা মিল পাওয়া গেছে।

অধ্যাপক তারিক মনজুর এ বিষয়ে আরও মন্তব্য করেন যে, ছবিগুলো দেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের এই অসম্পূর্ণ তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ডাকসু কর্তৃপক্ষের দাবি, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং নকশা করার সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে চেহারায় পরিবর্তন চলে আসে। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা জানান, ডিজাইনারকে ছবি দেওয়ার পর মান বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় দু-তিনটি ছবির চেহারা এক রকম হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ছবির কোয়ালিটি এনহ্যান্স করতে গিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর ডিজাইনারের মাধ্যমে নতুন ছবি সংগ্রহ করে তা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ডাকসুর এই সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় চালু করা হয়। সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগের কয়েকটি ছবি বাদ পড়ার পাশাপাশি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আব্দুল মালেকের ছবিও সেখানে রাখা হয়েছে। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে ১৪ সেপ্টেম্বর একজন শিক্ষার্থী তিনটি ছবিই ছিঁড়ে ফেলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা সেখানে গোলাম আযমের জুতাপেটা করার ছবি টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি টাঙানোর ঘটনা তদন্তে ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo