সীতাকুণ্ডে ২০ কোটি টাকার প্রকল্প ফেরত, ৮ বছর পরও সুপেয় পানির সংকট
- আপডেট সময় : ০৫:১৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

সীতাকুণ্ড পৌরসভায় ৫০ হাজারের বেশি বাসিন্দা এখনও নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন। প্রায় আট বছর আগে জায়গার অভাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার একটি পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেরত যাওয়ার পর সেখানে স্থায়ী কোনো নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পৌর এলাকার বাসিন্দারা অগভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল হলেও সরকারি নথিতে সেই পানিতে আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।
২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নিরাপদ পানির উৎস খুঁজে বের করতে পৌর প্রশাসন নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে। সীতাকুণ্ডের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূগর্ভে শক্ত শিলাস্তর থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে গভীর নলকূপ স্থাপন করা যাচ্ছে না। এ জটিলতা কাটাতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জরিপ চালানোর পাশাপাশি নতুন একটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে।
গত ৯ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক স্মারকে সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ভূগর্ভের শক্ত শিলাস্তর ভেদ করে গভীর উৎপাদন নলকূপ স্থাপনে ‘হাইড্রোলিক রিগ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া সাবমার্সিবল পাম্প, পানি শোধনাগার, সংরক্ষণ ট্যাংক ও পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে পৌরবাসীর কাছে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) সীতাকুণ্ডের সহকারী প্রকৌশলী প্রনবেশ মহাজন জানান, পাহাড় ও সাগরের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে সীতাকুণ্ডের অনেক এলাকায় ভূগর্ভে শক্ত শিলাস্তর রয়েছে। শিলাস্তরের নিচে পানির প্রকৃতি ও স্তর নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের জরিপ চলছে। জরিপ শেষ হলে নিরাপদ পানির সুনির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত হওয়া যাবে। আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানির জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের আবেদন ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে করা হয়েছে।
অতীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নূরনবী জানান, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সীতাকুণ্ডে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার স্থাপনের বরাদ্দ মিলেছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জমি বা জায়গা নিশ্চিত করতে না পারায় প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায় এবং বরাদ্দ ফেরত যায়। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য পৌরসভায় শোধনাগারের মাধ্যমে আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ করা গেলেও সীতাকুণ্ডে জায়গার অভাবে তা সম্ভব হয়নি।
তবে এবার নতুন প্রস্তাবে শুধু পানি সরবরাহ নয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও যুক্ত করা হয়েছে। পৌর এলাকায় কঠিন ও তরল বর্জ্য শোধনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় একই প্রকল্পের অধীনে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পৌর প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সুপেয় পানির সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে এবং বর্তমানে নিরাপদ পানির উৎস শনাক্তকরণ, জায়গা নির্বাচন ও কারিগরি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৩১আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ২৩
জায়গার অভাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার আট বছর পরও স্থায়ী নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি সীতাকুণ্ড পৌরসভায়। ২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভার ৫০ হাজার ১৩১ বাসিন্দার জন্য নেই কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থা। অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের ভরসা অগভীর নলকূপের পানি। সরকার




























