ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে বা 'রিসেট' করতে চায় বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, এই সম্পর্ক অতীতের ১৫ বছরের ধারার বাইরে গিয়ে নতুন একটি দিকে পরিচালিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি মত দেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরটি দ্বিপাক্ষিক হওয়া উচিত, বহুপাক্ষিক নয়। রোববার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে চিফ হুইপের তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি চিফ হুইপের আওতাধীন বিষয় হওয়ায় তিনিই এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়বেন বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। সেখানে ভাষণের পাশাপাশি সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, 'আপনার প্রশ্নটি সঠিক হয়নি। ভারত নিয়ে মুগ্ধতা থেকে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি প্রতিবেশী দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই।' তিনি আরও যোগ করেন, 'সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার—সব সময় খালি ভারতের কথাই ভাবলে চলবে না। নিজের দেশের কথা ভাবুন। যার সঙ্গে যখন দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক কথা বলা দরকার, আমরা অবশ্যই তা বলব। কিন্তু সাইডলাইনে সবার সঙ্গে তো আর দেখা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের অনেক নিমন্ত্রণ থাকবে এবং অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে।'
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদে সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের নিয়োগ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি একে 'দুঃখজনক ও বিতর্কিত' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ওই পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা তাঁর ছিল না। স্বৈরাচারী সরকার স্বজনপ্রীতি, জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে ওই পদে বসিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'শেখ মুজিব পরিবারের দুর্নীতির দুর্গন্ধ এখন এতটাই স্পষ্ট যে মানুষ সব জায়গায় তা চিনতে পারছে। সুতরাং কোনো যোগ্যতা ছাড়া কেবল বিশেষ পরিবারের সন্তান ও তৎকালীন তথাকথিত প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় এই পদ বাগিয়ে নেওয়াটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়।'
প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কঠোর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'যারা এমন দুর্নীতি ও বিতর্কের সাথে জড়িত, তাদের এসব সংস্থায় রাখা উচিত নয়। কারণ, এতে বিশ্বমঞ্চে সংস্থাগুলোর সম্মান নষ্ট হয়।' ভবিষ্যতে মালদ্বীপের প্রার্থীর মতো যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিলে বিশ্ব বা এই অঞ্চলের জন্য শুভ কিছু হবে না।



























