সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টন
- আপডেট সময় : ১১:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া নানামুখী উদ্যোগের ফলে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন, যা গত ৯ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে দেশে খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন। খাদ্য মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি গুদামগুলোর সংরক্ষণ সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। আগে যেখানে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে সরকারি মজুতের মধ্যে চাল রয়েছে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৩২…১৮৩ মেট্রিক টন এবং ধান ৩৪…০৭০ মেট্রিক টন। ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুতসহ মোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে, যার মধ্যে ফ্লোটিং মজুত হিসেবে গম রয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেশে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। সে সময় চালের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৫৪…হাজার মেট্রিক টন এবং গম ছিল ১ লাখ ৭৭…হাজার মেট্রিক টন। সেই হিসাবে বর্তমানে সরকারি মজুত বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন।
বিগত বছরের তুলনায় মজুত বৃদ্ধির এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ২০২৪ সালের একই সময়ের তথ্যের সাথে তুলনা করলে। ওই বছর দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সরকারি গুদামে মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, দাম স্থিতিশীল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্যের চাহিদা মোকাবিলা করা সহজ হয়।
এদিকে চলতি বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ১ লাখ ৫…হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন। এছাড়া ৫২৩ মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে। খাদ্যশস্যের মজুত শক্তিশালী রাখতে আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন আমদানি করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উৎপাদন, সংগ্রহ, আমদানি ও সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। নিয়মিত মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালু রাখতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে চলতি আমন মৌসুমেও ভালো ফলনের আশা করছে সরকার। ফলে আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তবে প্রয়োজনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে গমের পরিবর্তে চাল দেওয়ার বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্য নিয়ে সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। পর্যাপ্ত মজুতের পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান ও সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম সচল রাখতে গুদাম থেকে সরবরাহও অব্যাহত রয়েছে। জামাল হোসেন আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ড ছিল ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার এ সীমা বাড়িয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার কাজ চলছে।



























