ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭০ জন ঢাকা ও উপকণ্ঠের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে এডিবির ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ গাজীপুরে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ জাতিসংঘে এরদোয়ানের ভাষণের সময় মোবাইল ফোনে মগ্ন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট মাগুরায় বেশি দামে সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রি, ১ লাখ টাকা জরিমানা গণমাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দলের কথা সমান গুরুত্বের দাবি শফিকুর রহমানের কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি ও সেলাই মেশিন বিতরণ ট্রাইব্যুনাল অবমাননার মামলায় দুই আইনজীবীর শুনানি ২৬ অক্টোবর বিশ্ববাজারে টানা ছয় দিন কমছে জ্বালানি তেলের দাম

ওষুধ সংকটে উত্তর সিটির কাছ থেকে মশা মারার কীটনাশক ধার নিল দক্ষিণ সিটি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মশা নিধনে নিজেদের ওষুধের ঘাটতি থাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছ থেকে ১৬ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক ধার নিতে হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি)। গত ১ সেপ্টেম্বর এই কীটনাশক সংগ্রহ করে দক্ষিণ সিটি। তবে বর্তমানে নিজেদের কেনা কীটনাশক হাতে পাওয়ায় ওষুধের আর কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খয়বর রহমান উত্তর সিটির সিইও বরাবর একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে দক্ষিণ সিটির মশা নিধন কার্যক্রম সচল রাখতে ৭০ হাজার লিটার পরিপক্ব মশা মারার কীটনাশক (অ্যাডাল্টিসাইড) ধার দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঠিকাদারদের সরবরাহ করা ২ লাখ ২১ হাজার ৫২০ লিটার ডেলটামেথ্রিন কীটনাশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং মেলাথিয়ন সরবরাহের জন্য আলাদা কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে বিলম্ব হওয়ার কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই কীটনাশক ধার চাওয়া হয়।

এই বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সিইও খয়বর রহমান জানান, ঠিকাদার মশার ওষুধ সরবরাহ করতে দেরি করেছিলেন এবং সেটি পরীক্ষার জন্য পাঠাতে ও ফল পেতেও কিছুটা সময় লেগেছে। তবে পরীক্ষার ফল চলে আসায় গত মঙ্গলবার থেকে নিজেদের কেনা কীটনাশক দিয়েই মশা নিধনের কাজ শুরু হয়েছে। উত্তর সিটির কাছ থেকে ধার নেওয়া কীটনাশক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ আগস্ট তাদের মনোনীত প্রতিনিধির কাছে ১৬ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর তা নিয়ে যায় দক্ষিণ সিটি। উত্তর সিটি উড়ন্ত ও পরিপক্ব মশা মারতে ‘মেলাথিয়ন ইসি-৫’ নামের এই কীটনাশক ব্যবহার করে, যার প্রতি লিটারের বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ টাকা। সেই হিসাবে এই ১৬ হাজার লিটার কীটনাশকের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭২ লাখ টাকা।

ডিএসসিসি সাধারণত পরিপক্ব মশা মারতে ডেলটামেথ্রিন ও মেলাথিয়ন—এই দুই ধরনের কীটনাশক পর্যায়ক্রমে ছয় মাস অন্তর ব্যবহার করে থাকে। দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫৭০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইডের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে উত্তর সিটির কাছ থেকে ধার নেওয়া ১৬ হাজার লিটার কীটনাশক দিয়ে মাত্র তিন থেকে চার দিনের কাজ চালানো সম্ভব। ডিএনসিসির সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান (যিনি সিইও-র অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন) জানান, দক্ষিণ সিটির চাহিদা বিবেচনা করেই কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ সিটি সমপরিমাণ টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ করলেই পরে ঠিকাদারের কাছ থেকে ওই ওষুধ নিয়ে হিসাব সমন্বয় করবে উত্তর সিটি।

এদিকে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩১০ এবং মারা যান ৫৪ জন। কিন্তু আগস্ট মাসে এই চিত্র ভয়াবহ রূপ নেয়। মাত্র এক মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনে, যা আগের সাত মাসের চেয়ে ১২৪ শতাংশের বেশি। আগস্টে মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। সেপ্টেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে; গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলতি মাসে নতুন করে ১১ হাজার ৯২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, যা আগস্টের মোট আক্রান্তের প্রায় ৩১ শতাংশ।

এক মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন, যা প্রথম সাত মাসের মোট আক্রান্তের তুলনায় প্রায় ১৩৪ শতাংশ বেশি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ওষুধ সংকটে উত্তর সিটির কাছ থেকে মশা মারার কীটনাশক ধার নিল দক্ষিণ সিটি

আপডেট সময় : ০১:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মশা নিধনে নিজেদের ওষুধের ঘাটতি থাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছ থেকে ১৬ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক ধার নিতে হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি)। গত ১ সেপ্টেম্বর এই কীটনাশক সংগ্রহ করে দক্ষিণ সিটি। তবে বর্তমানে নিজেদের কেনা কীটনাশক হাতে পাওয়ায় ওষুধের আর কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খয়বর রহমান উত্তর সিটির সিইও বরাবর একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে দক্ষিণ সিটির মশা নিধন কার্যক্রম সচল রাখতে ৭০ হাজার লিটার পরিপক্ব মশা মারার কীটনাশক (অ্যাডাল্টিসাইড) ধার দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঠিকাদারদের সরবরাহ করা ২ লাখ ২১ হাজার ৫২০ লিটার ডেলটামেথ্রিন কীটনাশকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং মেলাথিয়ন সরবরাহের জন্য আলাদা কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে বিলম্ব হওয়ার কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই কীটনাশক ধার চাওয়া হয়।

এই বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সিইও খয়বর রহমান জানান, ঠিকাদার মশার ওষুধ সরবরাহ করতে দেরি করেছিলেন এবং সেটি পরীক্ষার জন্য পাঠাতে ও ফল পেতেও কিছুটা সময় লেগেছে। তবে পরীক্ষার ফল চলে আসায় গত মঙ্গলবার থেকে নিজেদের কেনা কীটনাশক দিয়েই মশা নিধনের কাজ শুরু হয়েছে। উত্তর সিটির কাছ থেকে ধার নেওয়া কীটনাশক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ আগস্ট তাদের মনোনীত প্রতিনিধির কাছে ১৬ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর তা নিয়ে যায় দক্ষিণ সিটি। উত্তর সিটি উড়ন্ত ও পরিপক্ব মশা মারতে ‘মেলাথিয়ন ইসি-৫’ নামের এই কীটনাশক ব্যবহার করে, যার প্রতি লিটারের বাজারমূল্য প্রায় ৪৫০ টাকা। সেই হিসাবে এই ১৬ হাজার লিটার কীটনাশকের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭২ লাখ টাকা।

ডিএসসিসি সাধারণত পরিপক্ব মশা মারতে ডেলটামেথ্রিন ও মেলাথিয়ন—এই দুই ধরনের কীটনাশক পর্যায়ক্রমে ছয় মাস অন্তর ব্যবহার করে থাকে। দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫৭০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইডের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে উত্তর সিটির কাছ থেকে ধার নেওয়া ১৬ হাজার লিটার কীটনাশক দিয়ে মাত্র তিন থেকে চার দিনের কাজ চালানো সম্ভব। ডিএনসিসির সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান (যিনি সিইও-র অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন) জানান, দক্ষিণ সিটির চাহিদা বিবেচনা করেই কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ সিটি সমপরিমাণ টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ করলেই পরে ঠিকাদারের কাছ থেকে ওই ওষুধ নিয়ে হিসাব সমন্বয় করবে উত্তর সিটি।

এদিকে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩১০ এবং মারা যান ৫৪ জন। কিন্তু আগস্ট মাসে এই চিত্র ভয়াবহ রূপ নেয়। মাত্র এক মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনে, যা আগের সাত মাসের চেয়ে ১২৪ শতাংশের বেশি। আগস্টে মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। সেপ্টেম্বর মাসেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে; গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলতি মাসে নতুন করে ১১ হাজার ৯২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, যা আগস্টের মোট আক্রান্তের প্রায় ৩১ শতাংশ।

এক মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন, যা প্রথম সাত মাসের মোট আক্রান্তের তুলনায় প্রায় ১৩৪ শতাংশ বেশি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo