সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ে শিক্ষিকা নিহতের তদন্তে এখনো অন্ধকারে পুলিশ
- আপডেট সময় : ১২:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীদের হেঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে স্কুল শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
গত ২৯ আগস্ট ভোরে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) তাঁর স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসেন। কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে নেমে তাঁরা একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী রনজিলার হাতের ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় রনজিলার স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর পরদিন, ৩০ আগস্ট র্যাব রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকা থেকে প্রধান সন্দেহভাজন মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে প্যারা পনি (২৮), তাঁর সহযোগী সেড্রিক জুলিয়ান (২৪) এবং মোটরসাইকেলের মালিক মো. রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে একটি ইয়ামাহা আর-১৫ মডেলের মোটরসাইকেল জব্দ করার কথা জানায় র্যাব। তবে ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা নীল রঙের মোটরসাইকেলের সঙ্গে র্যাবের উদ্ধার করা রুপালি ও কালো রঙের মোটরসাইকেলের মিল না থাকায় তদন্তে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
রাকিবের স্ত্রী সুমাইয়া ইসলাম দাবি করেছেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় তাঁদের মোটরসাইকেলটি বাসার গ্যারেজেই ছিল, যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে। তিনি এই প্রমাণ পুলিশ, র্যাব ও আদালতকে দেখানোর চেষ্টা করলেও কেউ তা আমলে নেয়নি। এদিকে মামলার এজাহারে ৩০ আগস্ট বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তেজতুরীপাড়া থেকে পনি ও সেড্রিককে গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও, স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। প্রোপার্টি-রো ভবনের নিরাপত্তাকর্মী খোরশেদ আলম (৫৫) জানান, ২৯ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে র্যাব পরিচয় দিয়ে পনিকে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে সেড্রিককে ৩০ আগস্ট ভোরে তাঁর চৌরঙ্গী মোড়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছেন।
৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শাহিন স্বীকার করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে এখনো অকাট্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা বা পাহারাদারের ভূমিকা—সব দিক মাথায় রেখেই তদন্ত চালানো হচ্ছে, তবে এখনো বলার মতো কিছু পাওয়া যায়নি।
ছিনতাই হওয়া ভ্যানিটি ব্যাগে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন, ২ হাজার টাকার একটি বাটন ফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ছিল। পুলিশ এখনো এসব মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। নিহত রনজিলার স্বামী আবদুল মতিন জানান, মামলার অগ্রগতি বা মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি; তিনি যা জানছেন তা কেবল সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পারছেন।




























