ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে এরদোয়ানের ভাষণের সময় মোবাইল ফোনে মগ্ন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট মাগুরায় বেশি দামে সার ও মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রি, ১ লাখ টাকা জরিমানা গণমাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দলের কথা সমান গুরুত্বের দাবি শফিকুর রহমানের কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি ও সেলাই মেশিন বিতরণ ট্রাইব্যুনাল অবমাননার মামলায় দুই আইনজীবীর শুনানি ২৬ অক্টোবর বিশ্ববাজারে টানা ছয় দিন কমছে জ্বালানি তেলের দাম গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অক্টোবরে একদিনের ছুটি নিলেই মিলবে টানা পাঁচ দিনের ছুটি হোমনায় মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

লিবিয়ায় জিপসাম খনিতে যশোরের ৫ যুবককে নির্যাতন, মামলা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



লিবিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ যুবককে পাচার ও জিপসাম খনিতে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যুবকের বাবা যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের সহায়তায় ওই যুবকদের জিম্মি করে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী যুবকেরা হলেন—আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, রিহান আলী, শাহিন আলম ও রানা হোসেন। উন্নত জীবনের আশায় তারা প্রত্যেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে দিয়ে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্থানীয় মফিজুর রহমান, তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম, মেয়ে রুমা খাতুন, লিবিয়াপ্রবাসী ছেলে সোহাগ এবং সোহাগের স্ত্রী পিয়া খাতুনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী আনোয়ারের বাবা মোশিয়ার রহমানের অভিযোগ, ২০২২ সালে মফিজুর রহমান তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁর ছেলে সোহাগ লিবিয়ায় অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশ থেকে বেকার যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে ভালো বেতনের চাকরির ব্যবস্থা করছেন। আনোয়ারকে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মফিজুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৫ মার্চ ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে আনোয়ারকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সোহাগ তাঁকে বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে দেশটির আল ছিদ্রা এলাকার একটি জিপসাম খনিতে কাজে লাগান। একইভাবে আরও চার যুবকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নিয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ওই পাঁচ যুবক নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং আল ছিদ্রা এলাকার জিপসাম খনিতে কাজ করার কথা জানাতেন। তবে এরপর থেকে হঠাৎ তাঁদের সবার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সন্তানদের সন্ধান না পেয়ে ২০২৫ সালের জুনের পর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্তও তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে গত ১ জুলাই এক যুবকের ফোন থেকে আনোয়ারের পরিবারের কাছে একটি কল আসে। তখনই জানা যায়, তাঁদের আল ছিদ্রা থেকে সরিয়ে লিবিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেনগাজি শহরের পূর্বদিকে অবস্থিত আল রাজমা এলাকার একটি জিপসাম খনিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে এবং কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে সোহাগ লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের লোকজনকে দিয়ে তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছেন।

একদিকে নিখোঁজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে বিদেশে পাঠানোর জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবারগুলো এখন দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই, নিখোঁজ যুবকদের অবস্থান শনাক্ত এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়ায় গিয়ে এখন পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ যুবক। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, রিহান আলী, শাহিন আলম ও রানা হোসেন—প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে নিয়ে তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় মফিজুর রহমান লিবিয়ায় থাকা তার ছেলে সোহাগের মাধ্যমে ২০২২ ও ২০২৩ সালে ওই পাঁচ যুবককে লিবিয়ায় পাঠান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

লিবিয়ায় জিপসাম খনিতে যশোরের ৫ যুবককে নির্যাতন, মামলা

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লিবিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ যুবককে পাচার ও জিপসাম খনিতে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যুবকের বাবা যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের সহায়তায় ওই যুবকদের জিম্মি করে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী যুবকেরা হলেন—আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, রিহান আলী, শাহিন আলম ও রানা হোসেন। উন্নত জীবনের আশায় তারা প্রত্যেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে দিয়ে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্থানীয় মফিজুর রহমান, তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম, মেয়ে রুমা খাতুন, লিবিয়াপ্রবাসী ছেলে সোহাগ এবং সোহাগের স্ত্রী পিয়া খাতুনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী আনোয়ারের বাবা মোশিয়ার রহমানের অভিযোগ, ২০২২ সালে মফিজুর রহমান তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁর ছেলে সোহাগ লিবিয়ায় অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশ থেকে বেকার যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে ভালো বেতনের চাকরির ব্যবস্থা করছেন। আনোয়ারকে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মফিজুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৫ মার্চ ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে আনোয়ারকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর সোহাগ তাঁকে বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে দেশটির আল ছিদ্রা এলাকার একটি জিপসাম খনিতে কাজে লাগান। একইভাবে আরও চার যুবকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নিয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ওই পাঁচ যুবক নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং আল ছিদ্রা এলাকার জিপসাম খনিতে কাজ করার কথা জানাতেন। তবে এরপর থেকে হঠাৎ তাঁদের সবার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সন্তানদের সন্ধান না পেয়ে ২০২৫ সালের জুনের পর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্তও তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে গত ১ জুলাই এক যুবকের ফোন থেকে আনোয়ারের পরিবারের কাছে একটি কল আসে। তখনই জানা যায়, তাঁদের আল ছিদ্রা থেকে সরিয়ে লিবিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেনগাজি শহরের পূর্বদিকে অবস্থিত আল রাজমা এলাকার একটি জিপসাম খনিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে এবং কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে সোহাগ লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের লোকজনকে দিয়ে তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছেন।

একদিকে নিখোঁজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে বিদেশে পাঠানোর জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবারগুলো এখন দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই, নিখোঁজ যুবকদের অবস্থান শনাক্ত এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়ায় গিয়ে এখন পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ যুবক। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আনোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, রিহান আলী, শাহিন আলম ও রানা হোসেন—প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে নিয়ে তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় মফিজুর রহমান লিবিয়ায় থাকা তার ছেলে সোহাগের মাধ্যমে ২০২২ ও ২০২৩ সালে ওই পাঁচ যুবককে লিবিয়ায় পাঠান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh