১৭ সেপ্টেম্বর কৃষক কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, প্রথম দিনে পাবেন এক লাখ চাষি
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সমন্বিত কৃষিসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। ওই দিন দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা থেকে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দিনেই দেশের এক লাখ কৃষকের হাতে পৌঁছে যাবে সরকারি প্রণোদনার অর্থ।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল এই কার্ডের মূল পর্বে যুক্ত করা হচ্ছে কিউআর কোড, যার মাধ্যমে কার্ড স্ক্যান করেই খুব সহজে প্রকৃত কৃষককে শনাক্ত করা যাবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে পরীক্ষামূলক বা প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছিল। তখন প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রম চালানো হয়। এবার তা বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষিযন্ত্র প্রাপ্তি, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য। বিশেষ করে কার্ডের আওতায় থাকা ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। শুধু ফসল উৎপাদনকারী চাষিই নন, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি, বর্গাচাষি ও ইজারা চাষিরাও এই কার্ডের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত 'প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর Nutrition এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ' বা সংক্ষেপে 'পার্টনার' প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ (IFAD) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এই প্রকল্প চলছে। পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। এদের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব ইতিমধ্যে খোলা হয়েছে, যাদের উদ্বোধনের দিনই প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া আরও পাঁচ লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধিত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের তথ্যে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৯৬ শতাংশই ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ১.৫ শতাংশ মৎস্য চাষে, ২.৫৫ শতাংশ গবাদিপশু পালনে এবং মাত্র ১৫৭ জন (০.১ শতাংশ) লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত। জমির মালিকানার ভিত্তিতে নিবন্ধিতদের মধ্যে ক্ষুদ্র কৃষক (৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক) রয়েছেন ৪৩ শতাংশের বেশি। প্রান্তিক কৃষক (৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক) প্রায় ৪০ শতাংশ, ভূমিহীন বা অতি ক্ষুদ্র কৃষক (০ থেকে ৫ শতক জমির মালিক) প্রায় ৮ শতাংশ, মাঝারি মানের কৃষক (২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক) ৮.৩১ শতাংশ এবং বড় কৃষক (৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক) রয়েছেন শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে মোট ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি (DPP) অনুযায়ী দেশে মোট কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে ৪৩ লাখ কৃষকের মাঝে এই ডিজিটাল কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককেই এই কল্যাণকর কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা।





























