ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিতর্ক পেছনে ফেলে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব ডাক দিবস উদ্‌যাপন গোমস্তাপুরে আম ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বস্তি উচ্ছেদের দাবি প্রস্পেরো কি শেক্সপিয়ারের আত্মপ্রতিকৃতি: ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকের এক গভীর বিশ্লেষণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তিন প্রকল্পে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এক বাবার ৬ সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্বপ্নপূরণের অনন্য দৃষ্টান্ত ডারবান টেস্টের প্রথম দিনে প্রোটিয়া পেসারদের তোপ, অস্ট্রেলিয়ার ১৮৭/৬ পাবনার আটঘরিয়ায় দুই শিক্ষকের অশ্রুসিক্ত বিদায় সংবর্ধনা নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের সেরা ১০ সিনেমা, যা না দেখলেই নয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএসসিসির বিশেষ প্রস্তুতি ও অনুদান ঘোষণা

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে জাপানের বিশেষ দূত জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমার বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট যে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত। তিনি এ সময় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার দিকগুলো তুলে ধরেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তার সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে এবং তিনি মনে করেন মিয়ানমার সরকার এ সংকটের সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নিজের অবস্থান থেকে সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও প্রধানমন্ত্রী তাকে জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে জাপানের বিশেষ দূত জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমার বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট যে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত। তিনি এ সময় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার দিকগুলো তুলে ধরেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তার সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে এবং তিনি মনে করেন মিয়ানমার সরকার এ সংকটের সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নিজের অবস্থান থেকে সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ দূত এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও প্রধানমন্ত্রী তাকে জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin