ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীতিমালা দিয়ে সাংবাদিকদের গুণগত মান পরিবর্তন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, কেবল নীতিমালা তৈরি করে সাংবাদিকদের গুণগত মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, কোনো নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিকভাবে ভালো করা যায় না। নীতিমালার মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে হয়তো আইনের আওতায় আনা সম্ভব, তবে সাংবাদিকদের গুণগত মান পরিবর্তনের জন্য প্রকৃত প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা।

বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক। অনুষ্ঠানে ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ—যার মধ্যে বিএনপি, বিজেপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত—এবং সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের কল্যাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন কোনো সাংবাদিকের অর্ধসত্য সংবাদের কারণে কারো জীবন, ক্যারিয়ার বা মান-সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা করাও সাংবাদিকতার জন্য ঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখনী ও প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্র, জনগণ ও মানুষের কল্যাণ সাধন করা।

গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপের বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, তিনি কখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার বা কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে সব সংবাদমাধ্যম থাকলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ফ্যাসিস্ট রেজিম এর বড় প্রমাণ, যেখানে সব সংবাদমাধ্যম পক্ষে থাকার পরও সময় শেষ হয়ে গেলে কেউ পাশে থাকে না।

সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্যের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এগুলোর কারণে সংবাদমাধ্যমের সৃজনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। মানুষ এখন যেকোনো সংবাদ দেখলেই সন্দেহ করে যে এটি ফেক নিউজ কি না। এমনকি সঠিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের তৈরি হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রতি কোনো খবর প্রকাশের জন্য চাপ সৃষ্টি বা তাদের চাকরি নষ্ট করার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রজন্ম আগের চেয়ে আলাদা, তাই সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকারের সমালোচনা করা এবং কোথায় কোথায় কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না তা তুলে ধরার পাশাপাশি নৈতিক দায়িত্ব বজায় রাখা জরুরি।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিডিয়ার ওপর হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমি বিশ্বাস করি, ২০টি টেলিভিশন চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চান, আপনি থাকতে পারবেন না। এর বড় উদাহরণ ফ্যাসিস্ট রেজিম। দুই বছর আগে দেখা গেছে, সব সংবাদমাধ্যম পক্ষে থাকার পরও সময় শেষ হয়ে গেলে

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

নীতিমালা দিয়ে সাংবাদিকদের গুণগত মান পরিবর্তন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, কেবল নীতিমালা তৈরি করে সাংবাদিকদের গুণগত মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, কোনো নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিকভাবে ভালো করা যায় না। নীতিমালার মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে হয়তো আইনের আওতায় আনা সম্ভব, তবে সাংবাদিকদের গুণগত মান পরিবর্তনের জন্য প্রকৃত প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা।

বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক। অনুষ্ঠানে ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ—যার মধ্যে বিএনপি, বিজেপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত—এবং সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের কল্যাণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন কোনো সাংবাদিকের অর্ধসত্য সংবাদের কারণে কারো জীবন, ক্যারিয়ার বা মান-সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা করাও সাংবাদিকতার জন্য ঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লেখনী ও প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্র, জনগণ ও মানুষের কল্যাণ সাধন করা।

গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপের বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, তিনি কখনো সংবাদমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার বা কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে সব সংবাদমাধ্যম থাকলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ফ্যাসিস্ট রেজিম এর বড় প্রমাণ, যেখানে সব সংবাদমাধ্যম পক্ষে থাকার পরও সময় শেষ হয়ে গেলে কেউ পাশে থাকে না।

সাইবার বুলিং ও মিথ্যা তথ্যের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এগুলোর কারণে সংবাদমাধ্যমের সৃজনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। মানুষ এখন যেকোনো সংবাদ দেখলেই সন্দেহ করে যে এটি ফেক নিউজ কি না। এমনকি সঠিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের তৈরি হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রতি কোনো খবর প্রকাশের জন্য চাপ সৃষ্টি বা তাদের চাকরি নষ্ট করার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রজন্ম আগের চেয়ে আলাদা, তাই সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকারের সমালোচনা করা এবং কোথায় কোথায় কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না তা তুলে ধরার পাশাপাশি নৈতিক দায়িত্ব বজায় রাখা জরুরি।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিডিয়ার ওপর হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়ে পার্থ বলেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমের ওপর কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমি বিশ্বাস করি, ২০টি টেলিভিশন চ্যানেল ও হাজার হাজার পত্রিকা আপনার পক্ষে থাকলেও আল্লাহ যদি না চান, আপনি থাকতে পারবেন না। এর বড় উদাহরণ ফ্যাসিস্ট রেজিম। দুই বছর আগে দেখা গেছে, সব সংবাদমাধ্যম পক্ষে থাকার পরও সময় শেষ হয়ে গেলে

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh