সব নাগরিকের জন্য আসছে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি বা এক-আইডি
- আপডেট সময় : ১২:৩০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের সব নাগরিকের জন্য একক পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি বা ‘এক-আইডি’ নামে পরিচিত এই পরিচয়পত্রটি শিশুরা জন্মের পরপরই পাবে। এই স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয়পত্রটি ব্যবহার করে নাগরিকরা সারা জীবন স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’ নামে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল মেয়াদী এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএনসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, এক-আইডি চালু হলে বিদ্যমান অন্য সব কার্ডের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এনআইডি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সেবাসমূহ এই নতুন কার্ডের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’, যার মাধ্যমে একজন নাগরিকের একটি কার্ডই তার ডিজিটাল পরিচয় ও লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তবে কার্ডটিতে ঠিক কোন কোন তথ্য থাকবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং ২০ কোটি কার্ড মুদ্রণ করা হবে। প্রতিটি কার্ডের উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৯ টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ ব্যয় ২৪৬ টাকা এবং বিতরণ খরচ ১২৩ টাকা।
পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা জোগান দেবে এবং বাকি ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের ঋণ হিসেবে আসবে। কার্ডের উৎপাদন, মুদ্রণ এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া অন্যান্য কার্ড যেমন ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা এবং কৃষক কার্ডের জন্য ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, বর্তমান কার্ডগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা দূর করতেই এই একক ও স্থায়ী পরিচয়পত্রের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেনের মতে, নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে বর্তমান এনআইডি কার্ডকে একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে।



























