ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
- আপডেট সময় : ০২:২৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এসে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রথমে ঠাকুরগাঁওয়ের আকচা গ্রামে অবস্থিত লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর ঘুরে দেখেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে তাঁরা দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরে যান।
ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর পরিদর্শনের সময় মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিল। সেখানে তাঁরা উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, গ্রামীণ ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি, স্থানীয় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও জ্ঞান এবং জীববৈচিত্র্যের নানা নিদর্শন ঘুরে দেখেন। পরে সেখানে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন রাষ্ট্রদূত এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মণ্ডা-মিঠাই ও পিঠার স্বাদ নেন। এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামান এবং জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা।
স্থানীয় ঐতিহ্য ও জীবনযাপনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ জামানের উদ্যোগে এই জাদুঘরটি গড়ে তোলা হয়। শুরুতে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন সামগ্রী সংরক্ষণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে এতে যুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন, বাদ্যযন্ত্র, নদী, বিজ্ঞান ও লোকজ খেলনার গ্যালারি। জাদুঘর পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, উত্তরবঙ্গে এটি তাঁর প্রথম সফর এবং এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত আনন্দের। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টি তাঁর খুব ভালো লেগেছে। এর আগের দিন তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রাচীন আমগাছ ও সমতল ভূমির চা-বাগান পরিদর্শন করেছিলেন, যেখানে তিনি মাথাল পরে চা-পাতা তোলেন। এছাড়া তিনি স্ত্রীকে নিয়ে তিস্তা ব্যারাজও ঘুরে দেখেছেন।
ঠাকুরগাঁও সফর শেষে সকাল ১০টার দিকে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে তাঁদের স্বাগত জানান। মন্দিরে পৌঁছে রাষ্ট্রদূত প্রদীপ প্রজ্বলন ও আরতিতে অংশ নেন। এরপর তিনি টেরাকোটা শিল্পে সমৃদ্ধ এই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। কান্তজিউ মন্দির চত্বরে তিনি ‘ক্রিসমাস’ নামের একটি গাছ রোপণ করেন। এরপর তিনি ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদও পরিদর্শন করেন।
কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাবিবুল হাসান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আহমেদ আবদুল্লাহ, রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রঞ্জিত সিংহ এবং দেবোত্তর কমিটির সদস্য ডি সি রায়সহ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।




























