ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ ৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’ তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭ পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন নতুন রেকর্ডের হাতছানি হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার সামনে

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার আমাদের, যেখানে কোনো মা সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রী স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলবেন না।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের বেদনা ও অপেক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুমের শিকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এটি কেবল একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, বরং একটি পরিবারের হাসি, স্বপ্ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়। এর মাধ্যমে নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার অধিকার লঙ্ঘিত হয়।

গত দেড় দশকের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। ভিন্নমত দমন ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন স্তব্ধ করতে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে এবং গোপনে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন, ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীর মতো ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে তাদের বছরের পর বছর গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার অভিযোগ করেন।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ বা মৃত। নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বেছে বেছে গুম ও হত্যার চিত্রকে তিনি অত্যন্ত ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সাথে বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, কেবল অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। গুমের শিকার পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। ভবিষ্যতে এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের শাসন সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০১:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার আমাদের, যেখানে কোনো মা সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রী স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলবেন না।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের বেদনা ও অপেক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুমের শিকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এটি কেবল একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, বরং একটি পরিবারের হাসি, স্বপ্ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেয়। এর মাধ্যমে নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার অধিকার লঙ্ঘিত হয়।

গত দেড় দশকের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। ভিন্নমত দমন ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন স্তব্ধ করতে অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে এবং গোপনে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন, ব্যারিস্টার আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীর মতো ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে তাদের বছরের পর বছর গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার অভিযোগ করেন।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ বা মৃত। নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বেছে বেছে গুম ও হত্যার চিত্রকে তিনি অত্যন্ত ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি দৃঢ়তার সাথে বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, কেবল অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। গুমের শিকার পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। ভবিষ্যতে এমন বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের শাসন সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।