ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’ পর্যালোচনা শুরু এশিয়ান গেমস কাবাডিতে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ মুকসুদপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসে স্কুল পোশাকের অনুদান বৃদ্ধি, সুবিধা পাবে আরও বেশি পরিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চার দিন ধরে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো তেলের দাম বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জন গ্রেপ্তার

লাউয়াছড়াসহ দেশের বিভিন্ন বনে বাড়ছে উল্লুকের বিচরণ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভোরে বৃষ্টি থামার পর শুকনা খাবার নিয়ে লাউয়াছড়া বনে তিন ঘণ্টার হাঁটার পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করি। বনের শুরুতেই মা-বাবাসহ একটি উল্লুকের বাচ্চার দেখা মেলে, যারা গাছের মগডালে অবস্থান করছিল। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় বন ছিল বেশ ঝোপঝাড়পূর্ণ এবং স্যাঁতসেঁতে মাটিতে জোঁকের উপদ্রব ছিল। ১৩ আগস্টের এই অভিযানে দেড় ঘণ্টা হাঁটার পর একটি পাহাড়ি ছড়া পাওয়া যায়, যা দিয়ে হাঁটা বেশ আরামদায়ক ছিল। পথে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, প্রজাপতি এবং তিন-চারটি ধনেশ পাখির ডাক শোনা যায়। ফেরার পথে খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত বাচ্চাসহ চারটি উল্লুকের আরেকটি পরিবারের দেখা পাই। এরপর লাউয়াছড়ার আরেক অংশ জানকীছড়ায় প্রবেশের মুখে আরও দুটি উল্লুক চোখে পড়ে, তবে বৃষ্টির কারণে দ্রুত বন থেকে বেরিয়ে আসতে হয়।

বনকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং গবেষক তারিক কবিরের মতে, লাউয়াছড়ায় উল্লুকের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। বর্তমানে এই বনে ১৫ থেকে ২০টি উল্লুকের দল রয়েছে, যেখানে প্রতি দলে ৩-৪টি করে সদস্য থাকে। সব মিলিয়ে এই বনে ৭০ থেকে ৮০টি উল্লুক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। লাউয়াছড়া উল্লুকের জন্য সহায়ক হলেও পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় এবং তাদের বিরক্ত করার প্রবণতা একটি বড় সমস্যা। এবারের উল্লুক দেখার এই কার্যক্রমটি মূলত বাংলাদেশের প্রাণীর লাল তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

সিলেট বিভাগের প্রায় প্রতিটি বনেই উল্লুকের বসবাস রয়েছে। এর মধ্যে রাজকান্দি এলাকার করমা বিটে সবচেয়ে বেশি উল্লুকের দেখা পাওয়া যায়, যেখানে ৩৬টি দলে প্রায় ১০০টি উল্লুক রয়েছে। এছাড়া সাতছড়িতে ১০-১২টির বেশি এবং আদমপুর বনে ১০-১২টি দলে প্রায় ৪০টি উল্লুক রয়েছে। ১৪ আগস্ট আদমপুর বনে একটি মাছরাঙা খুঁজতে গিয়ে ফেরার পথে ৫টি উল্লুকের একটি দলের দেখা মেলে, যারা আমাদের দেখে নানা অঙ্গভঙ্গি করছিল।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকা অনুযায়ী, উল্লুক বাংলাদেশে একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। গবেষক তারিক কবিরের গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশের ৪৬টি বনভূমিতে ২৫৪টি দলে প্রায় ৮১৬টি উল্লুক রয়েছে। সত্তরের দশকে এই সংখ্যা প্রায় তিন হাজার ছিল বলে ধারণা করা হলেও ২০০০ সালের দিকে তা ২৮০-এর কাছাকাছি নেমে এসেছিল। জরিপ পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এই সংখ্যাগুলোর তুলনা করা কঠিন।

উল্লুকের টিকে থাকার জন্য বড় বড় ফলদ গাছ প্রয়োজন, কিন্তু প্রাকৃতিক বনে এ ধরনের গাছের সংখ্যা কমছে। এছাড়া বনের ভেতর রাস্তা ও রেললাইন বাড়ায় প্রাণীগুলোর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উল্লুক সাধারণত মাটিতে নেমে চলাফেরা করে না, তাই সিলেটের কিছু বনে ক্যানোপি সেতু তৈরি করা হলে তাদের চলাচলে সুবিধা হবে। পাশাপাশি, এখনো উল্লুক শিকারের অবৈধ খবর পাওয়া যায়, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এ বনে ১৫-২০টি উল্লুকের দল বনের বিভিন্ন এলাকায় বাস করে।

আর সংখ্যায় ৭০-৮০ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

লাউয়াছড়াসহ দেশের বিভিন্ন বনে বাড়ছে উল্লুকের বিচরণ

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ভোরে বৃষ্টি থামার পর শুকনা খাবার নিয়ে লাউয়াছড়া বনে তিন ঘণ্টার হাঁটার পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করি। বনের শুরুতেই মা-বাবাসহ একটি উল্লুকের বাচ্চার দেখা মেলে, যারা গাছের মগডালে অবস্থান করছিল। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় বন ছিল বেশ ঝোপঝাড়পূর্ণ এবং স্যাঁতসেঁতে মাটিতে জোঁকের উপদ্রব ছিল। ১৩ আগস্টের এই অভিযানে দেড় ঘণ্টা হাঁটার পর একটি পাহাড়ি ছড়া পাওয়া যায়, যা দিয়ে হাঁটা বেশ আরামদায়ক ছিল। পথে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, প্রজাপতি এবং তিন-চারটি ধনেশ পাখির ডাক শোনা যায়। ফেরার পথে খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত বাচ্চাসহ চারটি উল্লুকের আরেকটি পরিবারের দেখা পাই। এরপর লাউয়াছড়ার আরেক অংশ জানকীছড়ায় প্রবেশের মুখে আরও দুটি উল্লুক চোখে পড়ে, তবে বৃষ্টির কারণে দ্রুত বন থেকে বেরিয়ে আসতে হয়।

বনকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং গবেষক তারিক কবিরের মতে, লাউয়াছড়ায় উল্লুকের সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। বর্তমানে এই বনে ১৫ থেকে ২০টি উল্লুকের দল রয়েছে, যেখানে প্রতি দলে ৩-৪টি করে সদস্য থাকে। সব মিলিয়ে এই বনে ৭০ থেকে ৮০টি উল্লুক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। লাউয়াছড়া উল্লুকের জন্য সহায়ক হলেও পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় এবং তাদের বিরক্ত করার প্রবণতা একটি বড় সমস্যা। এবারের উল্লুক দেখার এই কার্যক্রমটি মূলত বাংলাদেশের প্রাণীর লাল তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

সিলেট বিভাগের প্রায় প্রতিটি বনেই উল্লুকের বসবাস রয়েছে। এর মধ্যে রাজকান্দি এলাকার করমা বিটে সবচেয়ে বেশি উল্লুকের দেখা পাওয়া যায়, যেখানে ৩৬টি দলে প্রায় ১০০টি উল্লুক রয়েছে। এছাড়া সাতছড়িতে ১০-১২টির বেশি এবং আদমপুর বনে ১০-১২টি দলে প্রায় ৪০টি উল্লুক রয়েছে। ১৪ আগস্ট আদমপুর বনে একটি মাছরাঙা খুঁজতে গিয়ে ফেরার পথে ৫টি উল্লুকের একটি দলের দেখা মেলে, যারা আমাদের দেখে নানা অঙ্গভঙ্গি করছিল।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকা অনুযায়ী, উল্লুক বাংলাদেশে একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। গবেষক তারিক কবিরের গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশের ৪৬টি বনভূমিতে ২৫৪টি দলে প্রায় ৮১৬টি উল্লুক রয়েছে। সত্তরের দশকে এই সংখ্যা প্রায় তিন হাজার ছিল বলে ধারণা করা হলেও ২০০০ সালের দিকে তা ২৮০-এর কাছাকাছি নেমে এসেছিল। জরিপ পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এই সংখ্যাগুলোর তুলনা করা কঠিন।

উল্লুকের টিকে থাকার জন্য বড় বড় ফলদ গাছ প্রয়োজন, কিন্তু প্রাকৃতিক বনে এ ধরনের গাছের সংখ্যা কমছে। এছাড়া বনের ভেতর রাস্তা ও রেললাইন বাড়ায় প্রাণীগুলোর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উল্লুক সাধারণত মাটিতে নেমে চলাফেরা করে না, তাই সিলেটের কিছু বনে ক্যানোপি সেতু তৈরি করা হলে তাদের চলাচলে সুবিধা হবে। পাশাপাশি, এখনো উল্লুক শিকারের অবৈধ খবর পাওয়া যায়, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এ বনে ১৫-২০টি উল্লুকের দল বনের বিভিন্ন এলাকায় বাস করে।

আর সংখ্যায় ৭০-৮০ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo