প্রসিকিউটরদের অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে বিচারকের ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০১:২৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের কোনো প্রসিকিউটরকে এজলাসে দেখা যায়নি।
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রসিকিউটরদের অনুপস্থিতির কারণে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করতে না পেরে বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের কর্মচারীদের প্রসিকিউশনকে খবর দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি এজলাসে উপস্থিত এক ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি নিজেকে মামলার তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এর মধ্যে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন আবেদন নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।
সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে বিচারক পুনরায় বলেন, তিনি আগেই প্রসিকিউশনকে খবর দেওয়ার জন্য বলেছেন। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, "ডিফেন্স লইয়াররা এসে ভরে গেছে, প্রসিকিউটরদের খবর নেই।" এর কিছুক্ষণ পর সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এজলাসে আসেন। তখন আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের প্রধান ফটকে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করছিলেন। এরপর প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ এবং পরে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম এজলাসে আসেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ উপস্থাপনের পর বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে বলেন, তিনি নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেন, এমনকি অনেক সময় সকালে না খেয়ে বা গোসল না করেই চলে আসেন। তিনি মন্তব্য করেন, "এভাবে দেশ চলতে পারে না।"
জবাবে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন দেরি হওয়ার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম দেরি হওয়ার দায় স্বীকার করে জানান, তিনি সকালে সরাসরি নিজের কক্ষে চলে যাওয়ায় অন্য প্রসিকিউটররা তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারেননি, যা থেকে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এমনটি আর হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

























