১৭ বছর পর জবরদখল মুক্ত প্রবাসীর পৈতৃক জমি
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ১৭ বছর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জবরদখল করে রাখা ৮ দশমিক ১৫ একর সম্পত্তি অবশেষে ফেরত পেয়েছেন প্রবাসী শরিফুল ইসলাম ও তার শরিকরা। সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় অবস্থিত এই পৈতৃক ও রেকর্ডভুক্ত জমিটি উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী পরিবারটি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি, তার ছেলে জায়েদ বিন কাদের এবং তাদের সহযোগীরা জমিটি দখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। ক্ষমতার দাপট ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে এতদিন পরিবারটি মুখ খোলার সাহস পায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শরিফুল ইসলাম দেশে ফিরে ৩ জুলাই স্বজনদের নিয়ে জমিতে গেলে রওশন আরা রুবি, জায়েদ বিন কাদের, মাহাফুজ সরদার, বনি আমিন ও আব্দুল আলিমসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের ওপর চড়াও হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার পর পরিবারটি সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। দেবহাটা থানাকে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও রওশন আরা রুবির ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে তা ব্যর্থ হয়।
পরিবারটি আরও জানায়, রওশন আরা রুবি নিম্ন আদালত ও জজ কোর্টে হেরে যাওয়ার পর হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার মিথ্যা দাবি করেছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় গত মঙ্গলবার প্রবাসী শরিফুল ও তার স্বজনরা আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল বুঝে পেয়েছেন।
এদিকে, শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেত্রী রুবির পুত্র ছাত্রলীগ নেতা জায়েদ বিন কাদের তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়েরের পাঁয়তারা করছেন। এই চক্রান্ত থেকে রক্ষা পেতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারটি পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
























