ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মতবিনিময়ে রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনের পর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে সেটা রক্ষা করতে হবে।" শনিবার (১৭ অক্টোবর) তিনি স্পষ্ট করে জানান, নাগরিকদের এই অধিকারের কথা সবসময় জোরের সঙ্গে বলতে হবে এবং সংবিধান প্রদত্ত অধিকার যে কোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে।
সম্মিলিত সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, প্রচলিত ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ ধারণার সঙ্গে যুক্ত করে বলা উচিত—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশে আবহমানকাল ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই অভূতপূর্ব সম্মিলনের নিদর্শন রয়েছে। একই সঙ্গে এই সম্প্রীতির বন্ধন বিনষ্ট করে যারা বিভিন্নভাবে বিভাজনের মাধ্যমে সুবিধা নিতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাধীনতার আগের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সবাই যেমন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল, সেই অবস্থানে আজও স্থির থাকা হয়েছে এবং তা রক্ষার জন্য যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশ। বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয় এবং কখনো কোনো বিষয়ে চরম জায়গায় যেতে চায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে দেশে ও বিদেশে বড় করে প্রচার করে অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন যে তারা নিজ নিজ ধর্ম সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার ট্রানজিশন পার করছে, যা ধৈর্যের সঙ্গে সবাইকে এগিয়ে নিতে হবে। জাতীয় সমস্যাগুলো সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং সবাই তা গ্রহণ করেছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংবিধান পরিবর্তনের কাজও শুরু হয়েছে। বক্তব্য শেষে তিনি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা সম্পন্নের আশা প্রকাশ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান। এর আগে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে তিনি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।


























