দিঘলিয়ায় বিদ্যালয়ের শৌচাগার থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১১:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শৌচাগারের ভেতর থেকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকেরা শৌচাগারের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ওই ছাত্রীর ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন তার প্রাইভেট পড়ার কথা ছিল না। তবে বেলা দুইটার দিকে ক্লাস শেষে পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে এক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার আগে সে শৌচাগারে যায়। সেখানে ঢোকার মুহূর্তে পেছন থেকে কেউ তাকে আঘাত করে। ছাত্রীটি জানায়, চিৎকার করতে গেলে হামলাকারীরা তার মুখ চেপে ধরে নাকে কোনো একটি পদার্থ স্প্রে করে, যার ফলে সে আংশিক অচেতন হয়ে পড়ে। সে অনুভব করতে পারে যে কেউ ব্লেড দিয়ে তার হাতে আঘাত করছে। হামলাকারীদের আচরণ নেশাগ্রস্ত বলে মনে হয়েছে তার কাছে। জ্ঞান ফেরার পর সে নিজেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায় এবং কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দ শুনতে পায়। সে সময় হাত বাঁধা অবস্থায় দরজায় ধাক্কা দিয়ে সে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় আগামী সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে অভিভাবকদের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে শিক্ষকেরা অভিভাবকদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং বেলা দুইটার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এক শিক্ষক পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদাভাবে পড়াচ্ছিলেন এবং তিনি নিজে বেলা তিনটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছিলেন। এরপর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশব্লকে সাড়া না পেয়ে তালা লাগিয়ে দেন। ওই শিক্ষকও বিকেল চারটার দিকে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যান। বিদ্যালয়ে ৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বারান্দার দুটি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন জানান, পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ওই ছাত্রীর বক্তব্য নিয়েছে। হামলাকারীদের সে দেখতে না পাওয়ায় তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওসির ভাষ্যমতে, ছাত্রীর বাবার সঙ্গে আর্থিক বিষয় নিয়ে অনেকের বিরোধ রয়েছে, যা তদন্তে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এছাড়া ছাত্রীর হাতে থাকা ক্ষতচিহ্নগুলো কীভাবে হয়েছে, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

























