বাহুবলে ছাত্রদল নেতা সাইফুল হত্যা: আড়াই বছর পর সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৬:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আড়াই বছর পর জসিম উদ্দিন নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাকে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত সাইফুল ইসলাম বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং মিরপুর আলিফ সোবহান চৌধুরী কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া জসিম উদ্দিন বাহুবল উপজেলার গগলপুর গ্রামের হুসন আলীর ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জসিম দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চের শুরুর দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সাইফুল ইসলাম। নিখোঁজের প্রায় পাঁচ দিন পর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈল গ্রামের নিকটবর্তী একটি হাওর থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। উদ্ধারকালে লাশটি পচে-গলে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা ছিল, দুর্বৃত্তরা সাইফুলকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর আলামত নষ্ট ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তখন পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় মামলার বাদী অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দীর্ঘ তদন্তের পর সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হবিগঞ্জ ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রঞ্জিত চন্দ্র গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ তদন্তের পর সাইফুল হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং এর নেপথ্যে থাকা মূল ঘটনা উন্মোচন করা সম্ভব হবে।




























