ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরদীতে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, থানায় মামলা পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৭ শিক্ষার্থীসহ নিহত ২৮ হামজার বিতর্কিত লাল কার্ডে ক্ষোভে ফুঁসছেন শেফিল্ড কোচ সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে পেশোয়ারে স্কুল ভবন ধসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ নিহত ২১ প্রাথমিক গণিত শিক্ষায় এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে ডাচ গবেষকদের গবেষণা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দিলেন প্রতিমন্ত্রী কলাপাড়ায় বাবার পাশে ঘুমানো ১০ মাস বয়সি শিশু নিখোঁজ উত্তরায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার, স্বাভাবিক যান চলাচল

নোয়াখালীতে মুরগি চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে নারীকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সেনবাগে মুরগি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ ইতিমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শুক্রবার রাতের এই ঘটনার একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যবয়স্ক ওই নারীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং কয়েকজন তাকে ঘিরে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে তিনি মুখ ঢাকার চেষ্টা করলে একজন এসে তার মুখের কাপড় সরিয়ে দেন এবং অন্য একজন জোর করে তার হাতে কয়েকটি মুরগি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এই নির্যাতনের বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী নারী বুধবার দুপুরে একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। তাদের দাবি, মুরগি চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই ওই নারী থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার মানুষকে হয়রানি করছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রবাসী এবং তিনি বাড়িতে একা থেকে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জমিজমা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ঘরে বসে মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক তার বসতবাড়ির টিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে তার মুঠোফোন কেড়ে নেয় এবং কাপড়চোপড় টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করে। পরে তাকে জোর করে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং দুজন মিলে তার গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে খামার থেকে মুরগি চুরির অভিযোগ তোলেন। এরপর রাত একটা পর্যন্ত তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তার নিজের বসতঘর থেকে চারটি মুরগি এনে সেগুলো তিনি চুরি করেছেন বলে অপবাদ দেয়। ঘটনার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান উপস্থিত হলেও তিনি নির্যাতনকারীদের পক্ষ নেন বলে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে নারীটি মুরগি চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তার ঘর থেকে ৪৫টি মুরগি উদ্ধার করে খামারির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত একটার দিকে ওই নারী স্বজনদের নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে মামলা করবেন বলে জানান।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপরই নারীর লিখিত অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে মুরগি চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে নারীকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর সেনবাগে মুরগি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ ইতিমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শুক্রবার রাতের এই ঘটনার একটি ২০ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যবয়স্ক ওই নারীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং কয়েকজন তাকে ঘিরে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে তিনি মুখ ঢাকার চেষ্টা করলে একজন এসে তার মুখের কাপড় সরিয়ে দেন এবং অন্য একজন জোর করে তার হাতে কয়েকটি মুরগি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এই নির্যাতনের বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী নারী বুধবার দুপুরে একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। তাদের দাবি, মুরগি চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই ওই নারী থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার মানুষকে হয়রানি করছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রবাসী এবং তিনি বাড়িতে একা থেকে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জমিজমা নিয়ে আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ঘরে বসে মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক তার বসতবাড়ির টিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে তার মুঠোফোন কেড়ে নেয় এবং কাপড়চোপড় টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করে। পরে তাকে জোর করে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং দুজন মিলে তার গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে খামার থেকে মুরগি চুরির অভিযোগ তোলেন। এরপর রাত একটা পর্যন্ত তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তার নিজের বসতঘর থেকে চারটি মুরগি এনে সেগুলো তিনি চুরি করেছেন বলে অপবাদ দেয়। ঘটনার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান উপস্থিত হলেও তিনি নির্যাতনকারীদের পক্ষ নেন বলে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে নারীটি মুরগি চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তার ঘর থেকে ৪৫টি মুরগি উদ্ধার করে খামারির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত একটার দিকে ওই নারী স্বজনদের নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে মামলা করবেন বলে জানান।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপরই নারীর লিখিত অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo