মহা ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা আগামীকাল শুক্রবার মহা ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে। ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার জাগরণ বা ‘বোধন’ অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এই আনন্দ উৎসব আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। এবার হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন বাড়ানো হয়েছে। শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি উপভোগ করতে পারবেন নাগরিকরা।
ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’ এ বছর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। সারাদেশে পূজা মণ্ডপের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে এবার মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় আয়োজকদের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রিচার্জেবল লাইট ও জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনি ও রোববার দুদিন জুড়ে ‘মহা সপ্তমী’ তিথি থাকায় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা বিস্তার লাভ করবে। সপ্তমীতে ‘নবপত্রিকা’ প্রবেশের পর দেবীর ৯টি উদ্ভিদ রূপ স্নান করিয়ে বিশেষ পূজা সম্পন্ন হবে। এরপর সোমবার পালিত হবে ‘মহাঅষ্টমী’, যার প্রধান আকর্ষণ অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত ‘সন্ধিপূজা’। মঙ্গলবার ‘মহানবমী’তে শেষ ধাপের প্রধান পূজা ও দেবীকে ‘ভোগ’ নিবেদন করা হবে। পঞ্জিকামত অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটছে ঘোড়ায় চড়ে এবং তিনি স্বর্গলোকে গমন করবেন নৌকায় চড়ে। শেষ দিন বিজয়া দশমীতে ভক্তরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহকারে নির্ধারিত জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাবেন।
গত ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হওয়ার পর থেকেই সারাদেশে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসা ও শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পূজামণ্ডপগুলো। রাজধানীতে কেন্দ্রীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মণ্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীত, বস্ত্র ও মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা এবং বিজয়া শোভাযাত্রার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সেখানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হবে। উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সার্বজনীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও এক অনন্য প্রতীক, যা ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে। শাস্ত্রমতে, দেবী দুর্গা তাঁর ভক্তদের ভয়, দুঃখ, যন্ত্রণা ও নানা বিঘ্ন থেকে রক্ষা করেন। ‘দুর্গা’ শব্দের একটি অর্থ হলো—যাঁকে দুঃখের মধ্য দিয়ে লাভ করা যায়। দেবী মানুষের সহনশীলতার পরীক্ষা নেন এবং বিপদে তাঁকে স্মরণ করলে ভক্তের কষ্ট দূর করেন। ‘মহা চন্ডী’র তথ্যমতে, ত্রেতা যুগে রামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ ও সীতাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার পূজা করেছিলেন। সেই পৌরাণিক ঘটনার পর থেকেই প্রতি শরতে এই দুর্গউৎসব পালিত হয়ে আসছে।



























