ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেবহাটায় বাসের ধাক্কায় মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত, চালক পলাতক বাকেরগঞ্জে সড়ক ও নদীভাঙনে চরম দুর্ভোগ, সংস্কারের দাবি হরমুজ প্রণালিকে ‘পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৪৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর টাকা ফেরত পেতে আইনি লড়াই শুরু নাটোরে ১৪০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আফ্রিকার দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবার জন্য সৌর অ্যাম্বুলেন্স উদ্ভাবন মঠবাড়িয়ায় পানি সংকট নিরসনে সরেজমিনে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক লালমোহনে ৫০ ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, ৫ বছরের শিশু নিহত

উৎপাদন খরচও উঠছে না ধানের দামে, সুনামগঞ্জের কৃষকরা বিপাকে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের বাজারমূল্য উৎপাদন খরচের চেয়েও নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। বৈশাখে ধান ঘরে তোলার পর থেকে ন্যায্য দামের আশায় থাকলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না তারা। পাইকাররা ধান কিনতে আগ্রহ না দেখানোয় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। এদিকে, ধানের দাম কম থাকলেও বাজারে চালের দাম চড়া থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কৃষকদের অভিযোগ, ধানের বাজারে মন্দার প্রভাব চালের দামে পড়ছে না।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় বাজারে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ৮০০ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে। হাওরাঞ্চলে এক কেদার জমিতে বোরো ধান উৎপাদনে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহনের খরচ যোগ করলে প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যায়। ফলে বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে প্রতি মণেই কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে অনেক কৃষক ধান বাজারে নিয়ে গিয়েও আবার বাড়িতে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন।

তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের কৃষক শফিক মিয়া জানান, দেনা পরিশোধের জন্য বৈশাখে ৮০০ টাকা মণ দরে কিছু ধান বিক্রি করলেও বাকি ধান ভালো দামের আশায় সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু এখন পাইকার না আসায় এবং দাম না বাড়ায় তিনি বিনিয়োগ হারানোর শঙ্কায় আছেন। একই অবস্থা শাল্লার ছায়ার হাওরের কৃষক মাহবুবুর রহমানের। তিনি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় অনেক ধান নষ্ট হওয়ার পরও যেটুকু রক্ষা করা গেছে, তার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। তিনি ধানের দাম ও চালের দামের অসংগতি খতিয়ে দেখার দাবি জানান। ধান ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল্লাহ জানান, লাভের আশায় বৈশাখে ১ হাজার মণ ধান মজুত করে রেখেছিলেন। ছেলের বিয়ের খরচ চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও ধান বিক্রি করতে না পারায় তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বৈশাখে হাওরের জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কৃষকরা যে ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন, তার একটি অংশ তারা ভালো দাম পাওয়ার আশায় গোলায় রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুম পার হওয়ার পরও দাম না বাড়ায়, এখন সেই ধান নিয়েই বিপাকে পড়েছেন তারা।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবং উৎপাদিত ধানের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। দেশের অন্যান্য জেলায় ফলন ভালো হওয়ায় সুনামগঞ্জে পাইকাররা ধান কিনতে আসছেন না। তিনি বলেন, ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকদের মধ্যে ভবিষ্যতে ধান চাষে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফেরদৌস জাহান জানান, সরকারি নির্দেশে ধান সংগ্রহ অভিযান বর্তমানে বন্ধ আছে। তবে এর আগে খাদ্য গুদামগুলোতে প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ২১ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শাল্লার ছায়ার হাওরের কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈশাখের ধান এখনো গোলায় পড়ে আছে। পাইকাররা এসে দাম পর্যন্ত করে না। এ সময়ে ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হওয়ার কথা। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়েছে। কষ্ট করে যে ধান ঘরে তুলেছি, সেটারও ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কৃষিতে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

উৎপাদন খরচও উঠছে না ধানের দামে, সুনামগঞ্জের কৃষকরা বিপাকে

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের বাজারমূল্য উৎপাদন খরচের চেয়েও নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। বৈশাখে ধান ঘরে তোলার পর থেকে ন্যায্য দামের আশায় থাকলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না তারা। পাইকাররা ধান কিনতে আগ্রহ না দেখানোয় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। এদিকে, ধানের দাম কম থাকলেও বাজারে চালের দাম চড়া থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কৃষকদের অভিযোগ, ধানের বাজারে মন্দার প্রভাব চালের দামে পড়ছে না।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় বাজারে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ৮০০ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে। হাওরাঞ্চলে এক কেদার জমিতে বোরো ধান উৎপাদনে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এর সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও পরিবহনের খরচ যোগ করলে প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যায়। ফলে বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে প্রতি মণেই কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে অনেক কৃষক ধান বাজারে নিয়ে গিয়েও আবার বাড়িতে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন।

তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের কৃষক শফিক মিয়া জানান, দেনা পরিশোধের জন্য বৈশাখে ৮০০ টাকা মণ দরে কিছু ধান বিক্রি করলেও বাকি ধান ভালো দামের আশায় সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু এখন পাইকার না আসায় এবং দাম না বাড়ায় তিনি বিনিয়োগ হারানোর শঙ্কায় আছেন। একই অবস্থা শাল্লার ছায়ার হাওরের কৃষক মাহবুবুর রহমানের। তিনি জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় অনেক ধান নষ্ট হওয়ার পরও যেটুকু রক্ষা করা গেছে, তার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। তিনি ধানের দাম ও চালের দামের অসংগতি খতিয়ে দেখার দাবি জানান। ধান ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল্লাহ জানান, লাভের আশায় বৈশাখে ১ হাজার মণ ধান মজুত করে রেখেছিলেন। ছেলের বিয়ের খরচ চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও ধান বিক্রি করতে না পারায় তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বৈশাখে হাওরের জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কৃষকরা যে ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন, তার একটি অংশ তারা ভালো দাম পাওয়ার আশায় গোলায় রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুম পার হওয়ার পরও দাম না বাড়ায়, এখন সেই ধান নিয়েই বিপাকে পড়েছেন তারা।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবং উৎপাদিত ধানের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। দেশের অন্যান্য জেলায় ফলন ভালো হওয়ায় সুনামগঞ্জে পাইকাররা ধান কিনতে আসছেন না। তিনি বলেন, ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকদের মধ্যে ভবিষ্যতে ধান চাষে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফেরদৌস জাহান জানান, সরকারি নির্দেশে ধান সংগ্রহ অভিযান বর্তমানে বন্ধ আছে। তবে এর আগে খাদ্য গুদামগুলোতে প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ২১ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শাল্লার ছায়ার হাওরের কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈশাখের ধান এখনো গোলায় পড়ে আছে। পাইকাররা এসে দাম পর্যন্ত করে না। এ সময়ে ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হওয়ার কথা। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হয়েছে। কষ্ট করে যে ধান ঘরে তুলেছি, সেটারও ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কৃষিতে বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh