বাসে চড়ে কিশোরগঞ্জ সফর, প্রধানমন্ত্রীর সরলতায় মুগ্ধ স্থানীয়রা
- আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় সফর মানেই সাধারণত কঠোর নিরাপত্তা, প্রটোকল আর আনুষ্ঠানিকতার ব্যস্ততা। তবে সেই পরিচিত গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে চড়ে কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও কিশোরগঞ্জ পৌঁছে এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন। তার এই সহজ-সরল চলাফেরা মুহূর্তেই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
যাত্রাপথে প্রধানমন্ত্রী বাস থামিয়ে তরুণদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন, আবার কোথাও স্কুল শিক্ষার্থীদের হাতে বল তুলে দিয়ে তাদের আনন্দ দিয়েছেন। এমন আন্তরিক আচরণে মুগ্ধ কিশোরগঞ্জবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং চায়ের আড্ডায় সর্বত্রই প্রধানমন্ত্রীর এই সাদামাটা মুহূর্তগুলোর ছবি ও ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্থানীয়দের অনেকের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এভাবে মিশে যাওয়ার দৃশ্য আগে খুব একটা দেখা যায়নি। এটি কেবল সরলতার প্রকাশ নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দূরত্ব কমিয়ে দেওয়ার একটি অনন্য বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
রোববার জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কটিয়াদীতে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তার বাসে চড়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, পদ-পদবির আনুষ্ঠানিকতা দূরে রেখে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ানোর এই দৃশ্য সত্যিই ব্যতিক্রমী। একইভাবে শিক্ষক ও সাংবাদিক মাসুম পাঠান জানান, একজন প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে আসতে দেখা স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দনও প্রধানমন্ত্রীর এই চলাফেরা মানুষের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর সুন্দর বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দুই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন তার ফেসবুক পোস্টে দিনটিকে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার জন্য ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাটে মৎস্য দিবস উপলক্ষে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং সেখানে স্থানীয়দের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।
সফরের অংশ হিসেবে কটিয়াদীতে একটি হ্যাচারি পরিদর্শন করেন এবং মৎস্যচাষিদের মধ্যে স্বর্ণপদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। পুরো সফর সফল করতে স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গসংগঠন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই স্বাভাবিক চলাফেরা স্থানীয়দের কাছে দিনটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে।


























