ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মারধর ও শিঙাড়া বিলির অভিযোগে আটক ২
- আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে দেওয়া বাড়ির সামনে আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করা এবং শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে তিনজনকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে একজন রিকশাচালক তাঁর মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠনের সদস্যসচিব পরিচয় দেওয়া আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল জনতা রিকশাচালকের কাছে যান। আয়াস ফোনটি চেক করে অভিযোগ করেন যে, রিকশাচালক ভিডিওটি যুবলীগের এক কর্মীর কাছে পাঠিয়েছেন। এরপর আয়াসের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ওই রিকশাচালককে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে ওই রিকশাচালককে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
রিকশাচালককে মারধরের সময় সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে অর্ণব দাস নামের এক ব্যক্তি ফুল দিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, অর্ণব দাসের বাড়ি টাঙ্গাইলে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। তাঁকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিঙাড়া বিলি করছেন—এমন অভিযোগ এনে আরেক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। ওই ব্যক্তির হাতে একটি ব্যাগ ছিল যার ভেতরে শিঙাড়া পাওয়া যায়। মারধরের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিও দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যাতে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন এবং কাউকে পেলে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। মব সৃষ্টি করে মারধর করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আয়াস দাবি করেন, তিনি মব সৃষ্টি করছেন না, বরং আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কাউকে পেলে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে আয়াস সেখান থেকে চলে যান।
ডিএমপির ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভোর থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাড়ির দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেখা গেছে। বাড়ির সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পথচারীদেরও চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির পাশাপাশি পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী ও উৎসুক লোকজন সেখানে ভিড় করেছেন।























