দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতা
- আপডেট সময় : ০১:০০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর এই আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক জোটের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত সরকার। তবে, এই সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেবেন কি-না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী, বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের নেতাদের সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই আঞ্চলিক জোট হচ্ছে বিমসটেক বা বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন। ২০২৫ সাল থেকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান পদটি রয়েছে বাংলাদেশের। সেই হিসেবে বর্তমান এই জোটের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত জুলাই মাসে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাতের পরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ভারত সফর নিয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে নয়, বরং বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার গঠনের দিন যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, সেখানেও একটি আমন্ত্রণ ছিল, যা সরকার সময়মতো বিবেচনা করবে। এদিকে, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ভারত দ্বিপাক্ষিক সফর ও ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আপডেট থাকলে তারা তা জানাবেন।
সাবেক কূটনীতিকরা মনে করছেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে দুই পক্ষই চেষ্টা করছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটানা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সময়ে নির্বাচন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের বিরোধীপক্ষগুলোর অভিযোগ ছিল, তবে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সমর্থন ছিল আওয়ামী লীগের প্রতি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী অবস্থান প্রকাশ্যে আসে এবং সীমান্তে উত্তেজনা ও মিছিল-সমাবেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী স্লোগান দেখা যায়।
বিশ্লেষক মাহফুজুর রহমান বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সফরে যান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়, তবে তা সম্পর্কের ইতিবাচক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, শুধু সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ থাকলে সফরটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হতে আগ্রহী হওয়ায় এই ধরনের এনগেজমেন্ট ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সাম্প্রতিক অডিও বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমান সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে এই সফর নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে এবং সরকার হয়তো এই পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।
























