ঢাকার ৫০ মোড়ে বসছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল, ব্যয় ১০০ কোটি টাকা

- আপডেট সময় : ০৬:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নতুন করে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যার অর্থ প্রতিটি সিগন্যাল স্থাপনে গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ হবে। এই অর্থ শুধু সংকেতবাতি কেনায় ব্যয় হবে না; বরং খুঁটি, ভিত্তি, স্টিলের বেড়া, বিদ্যুৎ-সংযোগ, ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি, সড়ক খনন, ক্যামেরা, নিয়ন্ত্রণ বক্স ও ট্যাবসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ক্রয়ের কাজেও এই বাজেট ব্যয় করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৮টি স্থানে সিগন্যাল বসাতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২টি স্থানে সিগন্যাল বসাতে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই ৫০টি স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতি চালুর নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুই সিটি করপোরেশনকে ৫০ কোটি টাকা করে মোট ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
নতুন এই সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কাজ করবে সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ঠিকাদাররা পূর্তকাজ যেমন—বেড়া নির্মাণ, নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি, খুঁটি ও বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করবেন। অন্যদিকে বুয়েট সিগন্যাল ব্যবস্থার নকশা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ এবং যানবাহনের চলাচলসংক্রান্ত জরিপ করবে। ডিএনসিসির ২৮টি স্থানে পূর্তকাজে প্রায় ৪৩ কোটি এবং সরঞ্জাম কেনায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ডিএসসিসির ২২টি স্থানে পূর্তকাজে ৩৫ কোটি এবং বুয়েটকে ৯ কোটি টাকা দেওয়া হবে। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এই বাজেটের অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নিয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজিব খাদেম জানিয়েছেন, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম রায়হান খান জানিয়েছেন, দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এর আগে গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে ২২টি মোড়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সংকেতবাতি বসানো হয়েছিল, যা যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় এ প্রযুক্তি প্রয়োজন। তবে তিনি সিগন্যাল ব্যবস্থা ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পাশাপাশি লেন ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নতুন সিগন্যালগুলো ডিএনসিসির মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদ গেট, গণভবন, মোহাম্মদপুর থানা, কলেজ গেট, টেকনিক্যাল, মাজার রোড, মিরপুর-১, সনি সিনেমা হল, মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মিরপুর-৬, মিরপুর-১৪, আগারগাঁও, আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিকল্পনা কমিশন, গুলশান ক্লাব, গুলশান আজাদ মসজিদ, গুলশান-১, গুলশানের ডোমিনোজ ক্রসিং, পুলিশ প্লাজা, নিকেতন, তেজগাঁওয়ের পুরোনো আড়ং, শান্তা টাওয়ার, তেজগাঁও-মহাখালী লিংক রোড, বিওয়াইডি শোরুম, রেইনবো ক্রসিং ও হাতিরঝিল-মগবাজার ক্রসিংয়ে বসবে। ডিএসসিসির ২২টি স্থান হলো আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি-৬, ধানমন্ডি-৭, কলাবাগান, রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি-২৭, কাঁটাবন, বাটা সিগন্যাল, কাকরাইল, বিজয়নগর, ফকিরেরপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, বঙ্গভবন, গুলিস্তান স্কয়ার, জিপিও, পল্টন মোড়, গ্রিন রোড, মগবাজার মোড়, মিন্টো রোড ও অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং।
























