ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণের ২১ জেলা, গরমে চরম ভোগান্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



তীব্র গরমে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আওতাধীন এলাকায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অনেক কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কলকারখানার উৎপাদনও। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে, যার ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিও ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২১ জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৬৫১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৫৩৯ মেগাওয়াট, যার ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ১১২ মেগাওয়াট। ওজোপাডিকোর খুলনা সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের চিত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং ছিল বরিশালে ২৮ মেগাওয়াট এবং খুলনায় ২৫ মেগাওয়াট। এছাড়া রাজবাড়িতে ১২, কুষ্টিয়ায় ৯, ঝিনাইদহে ৫, মাগুরা ও গোপালগঞ্জে ৪ মেগাওয়াট করে, পটুয়াখালীতে ৩ মেগাওয়াট এবং চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ঝালকাঠিতে ২ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং করা হয়। পিরোজপুর ও চরফ্যাশনে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১ মেগাওয়াট করে।

এর আগের দিন সোমবারও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, সেদিন খুলনাসহ ২১ জেলায় ৭১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ৫৯৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১২২ মেগাওয়াট। তবে এই ঘাটতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি জানাতে পারেননি।

এই বিদ্যুৎ সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে স্থানীয় শিল্প খাতে। খুলনা ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্ট লিমিটেডের কমার্শিয়াল ম্যানেজার গোবিন্দ কুমার বাইতী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। উৎপাদন সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ লিটার তেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে তারা এই সমস্যায় ভুগলেও সম্প্রতি এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খুলনা মহানগরের নিরালা এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান মুন্না জানান, দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা পড়াশোনা করতে পারছে না এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তীব্র গরমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখন এমন সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণের ২১ জেলা, গরমে চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৬:১২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র গরমে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আওতাধীন এলাকায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অনেক কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কলকারখানার উৎপাদনও। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে, যার ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিও ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২১ জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৬৫১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৫৩৯ মেগাওয়াট, যার ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ১১২ মেগাওয়াট। ওজোপাডিকোর খুলনা সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের চিত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং ছিল বরিশালে ২৮ মেগাওয়াট এবং খুলনায় ২৫ মেগাওয়াট। এছাড়া রাজবাড়িতে ১২, কুষ্টিয়ায় ৯, ঝিনাইদহে ৫, মাগুরা ও গোপালগঞ্জে ৪ মেগাওয়াট করে, পটুয়াখালীতে ৩ মেগাওয়াট এবং চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ঝালকাঠিতে ২ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং করা হয়। পিরোজপুর ও চরফ্যাশনে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১ মেগাওয়াট করে।

এর আগের দিন সোমবারও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, সেদিন খুলনাসহ ২১ জেলায় ৭১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ৫৯৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১২২ মেগাওয়াট। তবে এই ঘাটতির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি জানাতে পারেননি।

এই বিদ্যুৎ সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে স্থানীয় শিল্প খাতে। খুলনা ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্ট লিমিটেডের কমার্শিয়াল ম্যানেজার গোবিন্দ কুমার বাইতী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। উৎপাদন সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ লিটার তেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে তারা এই সমস্যায় ভুগলেও সম্প্রতি এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খুলনা মহানগরের নিরালা এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান মুন্না জানান, দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা পড়াশোনা করতে পারছে না এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তীব্র গরমে যখন বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখন এমন সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh